Tuesday, April 28, 2026

The Spring Song

 

The Spring Song
Imrul Kayes

It's spring in my hutch, in me, in my land
Oh, darling! Oh, darling!
Where're you now wandering?
Hey, baby! My baby!
It's time for you, for me to pass
Miss you, my darling, 
I miss you so very much.

My baby, you may be an Asian pie
In spring , he darling, Why're you so shy?
Let's sing, let's dance
let me have a crazy touch.
Feel you, I feel you, so very much.

My bay, I feel you from the core
In what sense, you make me so poor?
Let's hug, let's tug
Let me have a yammy huss
Love you, I love you so very much.

23 August 2000
Kichukshan, Khulna

Monday, April 27, 2026

The Angels of Tham Luang Cave

 

The Angels of Tham Luang Cave
IMRUL KAYES
Some angels were confined in the Tham Luang Cave
The Nature seemed to be very brutal to them
They were dreaming to have a birthday celebration.
Their adventure was full of fantasies and excitements
And their return was abrupted.
Cruel disaster was waiting for them.
The angels fell into the death-jaw
And, so were their caretaker; the coach.
The whole world and the Heaven
Were melting for a prayer for them.
The God Himself took part in this mourning.
Therefore, the angels were rescued.
The sky and the Heaven are now waiting for the reconciliation.
God lives absolutely in mass prayers.

Note:
In June/July 2018, a junior association football team became trapped for nineteen days in Tham Luang Nang Non, a cave system in Chiang Rai province, Thailand.
17 June 2018
Khulna

হামদ এ এলাহী

 

হামদ এ এলাহী
ইমরুল || কায়েস
গভীর রাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়
মনে পড়ে যায় প্রভু, মনে পড়ে যায়
জায়নামাজে তোমার দিদার খুঁজি
অশ্রু জলের ফোঁটা ডাকে তোমায়।
রাত্রি গভীর হলে, মায়ার আঁধার নামে
তন্দ্রা ফেরি করে ঘুমায় আঁখি
আঁকাশ বাতাস ফুঁড়ি, সাগর পাহাড় খুঁজি
তোমায় খুঁজে ফিরি আল্লাহ মাফি
কলরব থেমে গেলে, গহীন রাতের মায়ায়
আশ্রয় খোঁজে শুধু তোমার ক্ষমায়।
রাত্রি গভীর হলে ভীষণ একা লাগে
তোমাকে দেখি না প্রভু, করি অনুভব
তোমার আশীষ পেতে ঐশী আলোর রথে
তোমায় খুঁজে ফিরি আল্লাহ মাফি
কোলাহল থেমে গেলে, নিমগ্ন হৃদয় নিয়ে
প্রার্থণা করি শুধু মুক্তির আশায়।

রাসুল বন্দনা

 

রাসুল বন্দনা
ইমরুল || কায়েস
আকাশ জানে, বাতাস জানে, জানে আমার রব
রাসূল তোমার মিষ্টি নাম যে হৃদয়ের কলরব
ভালোবাসার কুসুম তুমি, হৃদয়ের মরুদ্দানে
তাই তো তোমার নাম লিখেছি বুকের মধ্যিখানে,
আমার বুকের মধ্যিখানে...
তুমি না এলে সৃষ্টি হতো না পৃথিবী চন্দ্র তারা
তুমি না এলে সূচনা হতো না মানব জীবনধারা
তুমিই মোদের মহন ত্রাতা হাশরের ময়দানে,
তাই তো তোমার নাম লিখেছি সিনার মধ্যিখানে
আমার সিনার মধ্যিখানে...
রবের সামনে যখন আমরা হয়ে যাবো জড়সড়
পাপের হিসাব ছোট করে দিও পূণ্য দেখাইও বড়
শেষ বিচারে পুলসেরাত আর হাশরের ময়দানে
তোমার আশীষ যেন পাই যেতে স্বর্গের উদ্যানে
প্রিয় স্বর্গের উদ্যানে।

আসসালাম স্বাগতম হে রাসুল (স.)

 

আসসালাম স্বাগতম হে রাসুল (স.)
ই ম রু ল কা য়ে স
আসসালাম, স্বাগতম, হে রাসুল (স.)
হাশরের ময়দানে যেন পাই তোমার সাফায়াত।
আঁধার যখন তাবৎ পৃথিবী চেয়েছিল গিলে খেতে
নৈতিকতা ভেসে গিয়েছিল অবক্ষয়ের স্রোতে
ঐশি আলোর ঝর্ণা হয়ে রবের আরশ থেকে
তখন তুমি নেমে এলে এ পাপের ধরণীতে।
যখন পাপে ডুবে গিয়েছিল আরবের মসনদ
ঘরে ঘরে ছিল নগ্ন নৃত্য, সুদ ঘুষ জুয়া মদ
পাপের সাগর আরব জাহান যখন দিশাহীন
তখন তুমি তাদের দেখালে নতুন আশার পথ।
বিবেক যখন পরাজিত হলো, মূর্তি হলো চালক
অন্ধকারে নিভে গিয়েছিল সভ্য জাতির আলোক,
যখন আরব অসহায় ছিল লালসার কাছে হেরে
তখন তুমি প্রেরিত হলে, দেখালে রবের ঝলক।
আসসালাম, স্বাগতম, হে রাসুল (স.)
তুমি আমাদের আলোকের পথ দেখাও।
যখন তুমি প্রেরিত হলে খুললো বন্ধ দ্বার
বিতাড়িত হলো সমাজের মাঝে গুমোট অন্ধকার
তুমি দেখালে সোনার আলোয় উদ্ভাসিত ভূবণ
তোমায় পেয়ে থেমে গেলো ধূধূ মরুর হাহাকার।
তুমি এনে দিলে ঐশি কিতাব পবিত্র ‘আল কুরআন’
মানব জাতির জীবনাদর্শ , পূর্ণ জীবন বিধান
তুমি পড়লে, ‘ইকরা বিইসমি রাব্বিকাল্লাজি খলাক’
শোনালে যখন , আনলো ঈমান সমগ্র আরব জাহান।
বন্ধ হলো মূর্তি পুজো, দেহ পুজোর স্বপ্ন বিলাস
তিক্ত নষ্ট অতীত ভুলে সৃষ্টি হলো নতুন সমাজ
মূর্তিগুলো নত হলো খুলে ফেলে আলখাল্লা
ঘোষণা দেয় মালিক মোদের অদ্বিতীয়, এক আল্লাহ।
আসসালাম, স্বাগতম, হে রাসুল (স.)
তুমি আমাদের বেহেশতের পথ দেখাও।
তুমি না এলে সৃষ্টি হতো না পৃথিবী চন্দ্র তারা
তুমি না এলে মিষ্টি হতো না মানব জীবন ধারা
তুমি না এলে কে আমাদের এনে দিতো রহমত
তুমি না এলে কে চিনাতো নাজাতের সরু পথ?
শেষ বিচারে পুলসেরাত আর হাসরের ময়দানে
তোমার আশীষ যেন পাই যেতে স্বর্গের উদ্যানে
তোমাকে ছাড়া পাবো কি বেহেশত, কে দেখাবে দিশে
পাবো কি নাজাত, ছুটবো কোথায় মুক্তির সন্ধানে?
মানবতার পথপ্রদর্শক নবীকূল শিরোমনি
তুমিই মোদের হৃদস্পন্দন, মমতার মহাখনি
শেষ বিচারে যখন আমরা হয়ে যাবো জড়সড়
পাপের হিসেব ছোট করে দিও, পূণ্য দেখাইও বড়।
আসসালাম, স্বাগতম, হে রাসুল (স.)
হাশরের ময়দানে যেন পাই তোমার সুপারিশ।
(পবিত্র সিরাতুন্নবী (স.) উপলক্ষে রচিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ)

নাতে রাসুল

 

নাতে রাসুল
ইমরুল || কায়েস
রাসুল তুমি মরুদ্যানের ফুল
আরব জাহান তোমার ঘ্রাণে হলো যে আকুল
সবাই হলো মাতোয়ারা তোমাতে মশগুল
তুমি মদিনার বুলবুল।
যখন পাপে ডুবেছিল আরবের মসনদ
ঘরে ঘরে মূর্তি ছিল, ছিল জুয়া মদ
তাদের তুমি ত্রাতা হয়ে এলে
ঐশী আলোর পথ দেখিয়ে ধরিয়ে দিলে ভুল
তুমি মদিনার বুলবুল।
তোমার আগমনে খুলে গেলো বন্ধ দ্বার
বিতাড়িত হলো মনের গুমোট অন্ধকার
ঐশী আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে
মরুর বুকে ফুটলো অবাক সুবাসিত ফুল
তুমি মদিনার বুলবুল।
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি.
খুলনা

 

The Global Sumud Flotilla
Imrul || Kayes
Hey brothers and sisters,
Let’s move and be the part of Sumud Flotilla,
And sail for Gaza to save the hungry people
And rescue the oppressed humanity.
When the Muslim leaders are slumbering,
Let’s be the leaders and captains by ourselves
Let’s sail our tiny boat to free the Palestinians.
Though the storm is fierce, our boat won’t sink
Though the waves are roaring, our boat won’t destroy.
Together we’ll row, together we’ll embrace the fate.
The braves never step back but receive the deaths.
They never fear the Monsters. The fact tells,
Israel is the land of Satan’s Paradise.
Let’s remove this name from the World Map.
Let’s keep our hands together and be united
And took our oars to row.
And set our caravans to reach the Gaza shore.
The monsters may intercept our ships,
But they can’t snatch away our love,
Even, if, they can take our heart,
They can’t depart our love from our heart.
Let’s keep on rowing boats through darkness
They can throw stones and shells from tanks
But we have promises to reach Gaza banks.
Hey friends from home & abroad
Let’s join the flotilla towards Palestine.
03 October 2025
Khulna, Bangladesh

অবুঝ রাখাল ও তার রক্তাক্ত স্বপ্ন

 

অবুঝ রাখাল ও তার রক্তাক্ত স্বপ্ন
ইমরুল কায়েস
এক স্বচ্ছল মধ্যবিত্তের বাড়ির আঙিনায়
অনেক যত্নে গড়ে ওঠেছিল একটি ফুল বাগান
দীর্ঘ সাক্ষাৎকার শেষে সেই বাগানের মালির দায়িত্ব
দেওয়া হয় এক স্বপ্ন বিলাসী রাখালের উপর।
রাখাল মালির অক্লান্ত শ্রম আর তিল তিল ভালোবাসায়
দ্রুত বড় হয়ে উঠলো চারাগাছ।
বসন্তের প্রথম প্রহরে সেই চারাগাছে ফুটলো ফুল
ফুলের বর্ণে-গন্ধে-সৌন্দর্যে রাখাল হয়ে উঠলো ব্যাকুল।
মাঝে মাঝে সবার অজান্তে ফুলের ঘ্রাণ শুকতো সে
মালির নিঃশ্বাসে কেঁপে উঠতো ফুলের কুমারী দেহ-মন
নির্জনে, নিঃসঙ্কোচে সেও মেলে দিত পাপড়ি।
একদিন এক অবাঞ্চিত দুঃসাহস বুকে নিয়ে
বাগানের মালিকের কাছে অবুঝ মালি চেয়ে বসলো-
সর্বকনিষ্ঠ ও সুদৃশ্য, মায়াময় মোহনীয় ফুলটি।
মুহূর্তে রক্তাক্ত হলো রাখাল মালির অবুঝ স্বপ্ন।
চিরকালের জন্য তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হলো
মোহনীয় সেই সুদৃশ্য ফুল ছোঁয়ার নিঃষ্পাপ অধিকার।
২৩ আগস্ট ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ
০৮ ভাদ্র ১৪১০ বঙ্গাব্দ
খুলনা।

পাখি

 

পাখি 🐦
ইমরুল || কায়েস
আমার একটি পোষ না মানা পাখি আছে।
পাখিটা যে ভীষণ অদ্ভুত; অভিমানী, মেজাজ গরম।
উৎপাতে তার উদাস কবির বিশ বসন্ত অম্লমধুর।
সেই পাখিটা অল্প অল্প কাব্য বোঝে। বোঝে বলেই
উদাস কবির হেরেম ছেড়ে বসে না সে অন্য ডালে...
সেই পাখিটা কাছে থাকলে উৎপাতে হৃদ-প্রেসার বাড়ে
থালা ঝনঝন, মাথা ভনভন, ধ্যান-ভঙ্গ বাউল কবির।
দূরে গেলেই নিঃসঙ্গতার অন্ধকারে ডুবে মরি
গ্রাস করে ব্যথার ধোঁয়া, ছন্দ হারায় ভাবনাগুলো।
পাখি যখন কাছে থাকে শূন্যতাটা বোঝা যায় না।
দূরে গেলেই হৃদয় আমার নিঃসঙ্গতার সাইবেরিয়া,
দূর সাহারায় তখন আমি নিঃসঙ্গ এক দুঃখের কবি।
মাঝে মাঝে দূর আকাশে পাখি আমার পাখনা মেলে,
ফিরে আসে সতেজ হয়ে নতুন রুপে শিষমহলে,
বিরহে তার কলকাকলি মুহূর্তে হয় পঙক্তিমালা।
সেই পাখিটা এমন পাখি, মেজাজ চড়া কিন্তু খাঁটি!
আচ্ছা ভাই- বলুন দেখি, পাখিটা কি নুনের বাটি?
পাতে থাকলে উপস্থিতি যায় না বোঝা,
না থাকলে শূন্যতাটা হয় অনুভব, তীব্রভাবে!

লিকলিকে মেয়ে ০৮

 


কবিতা || লিকলিকে মেয়ে ০৮
ইমরুল কায়েস
লিকলিকে মেয়ে
এই শহরে তুমি নাকি আবার এসেছো ফিরে!
তোমার আগমনে শহরে নেমেছে সাইবেরিয়া
কমে গেছে তাপমাত্রা; শীতে কাঁপছে দিন-মজুর,
কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে এখানের জনপদ,
দাঁতে দাঁতে বাড়ি লাগছে আমারও;
তবু শুধু একটিবার তোমাকে দেখার জন্য
মনটা ভীষণ অস্থির হয়ে আছে।
তোমাকে দেখার স্বপ্নে তছনছ দিনের কর্ম-তালিকা
অথচ তুমি জানালা দরোজা বন্ধ করে বসে আছো ঘরে!
বার্মিংহামে বৃষ্টি হচ্ছে। সাটন পার্কে নীরব সন্ধ্যা ; কারাকাসের ট্রাম্প নাটক দেখতে এখন সবাই ব্যস্ত,
পুতিন ঝড়ে বিধ্বস্ত ওডেসা বন্দর,
ইরানে চলছে খামেনি নামাও বিপ্লব!
আমি শুধু তোমাকে দেখার পুরনো স্বপ্নে বিভোর।
সীমাহীন ব্যস্ততা অক্টোপাসের মতো বেঁধে রেখেছে
কষাঘাতে ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্চি ভিতোরে, গহীনে।
তুমি অনুমতি দিলেই যে কোনো সময়
তোমার সামনে এসে দাড়াতে পারি।
০৮ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
খুলনা

প্রথম প্রেম, লাজুক সন্ধ্যা

 

প্রথম প্রেম, লাজুক সন্ধ্যা
ইমরুল কায়েস
এই সন্ধ্যার স্নিগ্ধ হাওয়ায়
ভেসে আসে তার কুমারী চুলের সঞ্জিবনী গন্ধ,
বুনো বাতাসে ছুটে আসে তার মায়াবী হাসি।
আমরা দু'জন আনমনে হেঁটে চলি মধুমতি তীরে।
প্রতিটি পদক্ষেপে অজস্র না বলা কথা;
কথাগুলো অনাদিকালের পঙক্তিমালা সাজায়।
তার চোখে আমি বুনি অজস্র স্বপ্নবীজ,
আমার চোখে সে কি খোঁজে, আমি ঠিক জানি না!
সেই সব স্বপ্নের গল্প লেখা হয়নি এখনও,
কিন্তু জানি, তা চিত্রিত হয়েছে বহু প্রচ্ছদে, বহুবার।
চাপা আনন্দ, উৎকণ্ঠা ভরা দু’টি প্রাণ,
সেই ছোট্ট নির্বাক মুহূর্তের অনুভূতি সাথে নিয়ে
আমি চুপচাপ হেঁটে চলি—
সে আছে তাই চালু আছে আমার হৃদ-স্পন্দন;
কবিরা নারীর কাছে বার বার হেরে যায়, হারতে হয়!
নারীরা কবিকে কষ্ট দেয়, কবির কষ্ট চুঁষে নেয়!
রাতের অন্ধকারে থোকায় থোকায় তারা ঝলমল,
আমাদের কণ্ঠে ভাসে নিঃশব্দ প্রেমের মেলোডি।
এই বিরহী সন্ধ্যা, এই স্নিগ্ধ বাতাস, এই বহমান নদী;
সব কিছু এক সাথে, বিমূর্ত স্মৃতির তুলি হাতে
রঙিন ছবি আঁকে হৃদয়ে ; সারাদিন, বিরতিহীন।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০২ খ্রি.
খুলনা

রাসুল (সা.) বন্দনা

 

রাসুল (সা.) বন্দনা || ইমরুল কায়েস
রাসূল তুমি এমনই একজন
যার তুলনা শুধুই তুমি জমিনে একজন।
তোমায় জানে সর্বজন, তোমায় মানে সর্বক্ষণ
তুমি বিশ্বজুড়ে মনের মাঝে আলোর বিচ্ছুরণ...
তোমার তুলনাতে, শুধু তুমিই যে সেরা,
বিশ্ব ভুবন জুড়ে সকল মুমিন আত্মহারা
মন গগনে সূর্য তুমি জ্বলো সারাক্ষণ
রাসুল তুমি এমনই একজন...
তোমার আহ্বানে যেন বাজে মধুর সুর,
আকাশ-বাতাস জানে তোমার নাম যে সুমধুর
শেষ বিচারে তোমার আশীষ চায় যে সর্বজন।
রাসূল তুমি এমনই একজন...
২১ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
খুলনা

আমার বন্ধু, প্রিয় বন্ধু ওবায়দুর

 

আমার বন্ধু, প্রিয় বন্ধু ওবায়দুর
ইমরুল কায়েস
আমার বন্ধু, প্রিয় বন্ধু ওবায়দুর
তোকে আজ খুব মনে পড়ছে?
আমার না ভোলা শৈশব তোর সাথে মিশে আছে।
তুই ছাড়া এখন ভীষণ একা লাগে, বন্ধু।
তোকে আর নাম ধরে ডাকতে পারছি না
কারণ তুই এখন আর নাম নয়, কেবলই স্মৃতি।
আমার খুব মনে পড়ে, একই বেঞ্চে বসে
খাতা-পেন্সিল ভাগ করে নেওয়ার সেই দিনগুলো?
আমার কলম হারালে তুই বলতিস,
“ আমারটা নে, পরে ফেরত দিলেই হবে”—
আজ তোকে ফেরত দেওয়ার
সেই সুযোগ টুকুই আমার হাতে নেই।
তুই ছিলি আমার খেলার সাথী, পড়ার সাথী
আমার কী করতে হবে, কী বলতে হবে
চোখের এক ইশারায়, সব তুই বুঝিয়ে দিতি।
আজ আমি ইশারা করি আকাশের দিকে—
কিন্তু তুই আর তাকাস না!
তুই মিশে গেছিস আকাশ নীলে, দূর দিগন্তে।
খেলার মাঠে বিসর্জন দেওয়া অজস্র বিকেলগুলো,
হাসতে হাসতে বাড়ি ফেরার অসংখ্য মুহূর্তগুলো,
আমাকে এখন ভীষণ যন্ত্রণা দেয়, বন্ধু !
মাঝে মাঝে অভিমানে কথা বলা বন্ধ হতো ,
কিন্তু, সে সব ভুলে আবার দু'জনে মিলে যেতাম।
অবারিত ফসলের মাঠে, অর্থহীনভাবে
অগুন্তি সময় কাটিয়েছি তোকে নিয়ে।
তুই নেই, কিন্তু সেই স্মৃতিগুলো, সেই মুহূর্তগুলো
আমাকে একা পেয়ে এখন কুঁড়ে কুঁড়ে খায়!
সীমাহীন ব্যস্ততার কারণে শেষ দিকে
তোর সাথে আমার দেখা ও কথা হতো কম।
ভেবেছিলাম আবার বসবো, সব ঠিক হয়ে যাবে।
কখনো ভাবিনি, সম্পর্ক ঠিক হওয়ার সেই সুযোগটাই
এভাবে একদিন একদম ফুরিয়ে যাবে!
ওবায়দুর, তুই তো জানিস,
আমি খুব একটা শক্ত মনের মানুষ না।
কিন্তু তোর চলে যাওয়ার পর
আমাকে অনেক শক্ত হতে হচ্ছে—
কারণ কাঁদলে—তুই এসে বলতিস, “কাঁদিস না,
সব ঠিক হয়ে যাবে।”
শেষবার তোর ফোন নম্বরটা
যখন আমার ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠেছিল ,
আমি খুবই ব্যস্ত ছিলাম, সেদিন।
ভেবেছিলাম, পরে মন খুলে কথা বলবো।
কী ভয়ঙ্কর মিথ্যে ভাবনা ছিল আমার
“পরে” আর কখনো ফিরে আসেনি।
মনের ভিতরে তোর জন্য যে জায়গা ছিল
সে জায়গাটা এখন আর খালি নাইরে,
জায়গাটা এখন ব্যথায় ভরা;
নীরবতায়, অপূর্ণতায় ও শূন্যতায়।
এমন কিছু কথা বুকের মধ্যিখানে মিছিল করে
যা তোকে ছাড়া আর কাউকে বলা যায় না।
যদি ওপার থেকে তুই দেখতে পারিস, দেখিস—
যদি ওপার থেকে শুনতে পারিস, শুনিস,
আমি এখনো আগের মতোই আছি,
শুধু স্মৃতির ভিতরে আমি তোকে খুঁজে বেড়াই।
ওপারে শান্তিতে থাকিস, বন্ধু
বিমর্ষ পৃথিবীতে এ আমার একমাত্র প্রার্থণা।
স্মৃতি বড় বেদনার, স্মৃতি বড় যন্ত্রণার।
মনে হয় বেঁচে থেকেও এই আমি
তুই না থাকার করুণ যন্ত্রণা অনুভব করছি।
২৩ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
খুলনা।

আমার বন্ধু, প্রিয় বন্ধু ওবায়দুর (দুই)

 



আমার বন্ধু, প্রিয় বন্ধু ওবায়দুর (দুই)
ইমরুল কায়েস
আমার বন্ধু, প্রিয় বন্ধু ওবায়দুর
এই মুহূর্তে তোর নামটা ভীষণভাবে মনে পড়ছে!
শৈশবের উঠোনে শুয়ে আছে বিমর্ষ অতীত
স্মৃতিগুলো অবিরত ছড়িয়ে যাচ্ছে বিষাদের ঘ্রাণ।
মনে আছে ওবায়দুর
খেলার মাঠে কাটানো সেই মিষ্টি মধুর সময়গুলো?
তেমন কোনো কর্ম ছিল না তখন,
কিন্তু, স্বপ্ন ছিল দু’জনের চোখে- মুখে ঠাঁসা।
আমাদের অজস্র অট্টোহাসির বিকেলগুলো
মনের মাঝে অগুনতি স্বপ্ন বোনার প্রহরগুলো
হা-ডুডু, ফুটবল ও দাড়িয়াবান্ধার ছত্রগুলো ;
ধুলোমাখা হাত-পা, ভাঙা কাঁচের মার্বেল,
ফলাফল ভালো করার মধুর প্রতিদ্বন্দ্বিতা
বারবার শব্দ করে আমাকে এখনো ডাকে,
“দোস্ত, আয় তো একটুখানি খেলে আসি”।
ওবায়দুর,
বিকেল হলেই এখনো আমি তোর ডাক শুনতে পাই,
কিন্তু তোকে যে চোখে দেখতে পাই না!
সেই একই আকাশ এখনো দেখি,
সেই একই সূর্যের ওঠা-ডোবা দেখি প্রতিদিন,
স্মৃতিময় জায়গাগুলোতে তোকে দেখতে পাই না আর!
তোকে ছাড়া জীবন এখন অসম্পূর্ণ লাগে।
তোর অজস্র কথোপকথন আটকে আছে আমার কণ্ঠে,
চোখের কোণে জমে আছে তোর নিষ্পাপ দৃষ্টি।
ওবায়দুর,
তুই ছিলি আমাদের সময়ের সবচেয়ে সহজ মানুষ।
কোনো অভিনয় ছিল না তোর মাঝে,
ছিল শুধু আস্থার নিশ্চয়তা।
আজ সেই আস্থার কথাই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে।
আমরা এক সাথে বড় হইনি শুধু,
এক সাথে কেঁদেছি, এক সাথে হেসেছি
এক সাথে না খেয়ে খেলেছি সময় পেলেই,
একই কারণে মায়ের বকুনি খেয়েছি বহুবার।
আমার কান্নার সুর সবার আগে তুই শুনতিস,
এখন আমার কান্নার রোল শোনার কেউ নাই।
তোর হাসিটা ছিল অদ্ভুত রকমের সহজ
যেন দুঃখ নামক শব্দটাই তোর অভিধানে ছিল না।
তোর সেই হাসিমুখের ছবিটা
বুকের ক্যানভাসে আঁকা আছে খোঁদাই করে।
ওবায়দুর, এখন তোর নামটা উচ্চারণ করলেই
আমার শৈশবটা খানখান করে ভেঙে পড়ে—
ভাঙা খেলনা, ভেজা চোখ, টুকরো স্মৃতি
আর কিছু অসমাপ্ত কথা, ভুলি কী করে বল?
ওবায়দুর, তুই যে নেই—
এই কথাটা মানতে আমার কষ্ট হয়, সময় লাগে।
কারণ কিছু মানুষ মরে না,
তারা শুধু অসহ্য নীরবতা হয়ে বুকের মাঝে বেঁচে রয়।
আমি এখনো বুকের ভিতোর
তোর জন্য একটা জায়গা রেখে দিয়েছি,
তোর শৈশবটা তুই নিজে
আমাকে নামপত্তন করে গেছিস।
মৃত্যু তোর শরীর কেড়ে নিয়েছে ঠিকই,
কিন্তু, নিতে পারেনি তোর শৈশব,
তুই আছিস আমার গল্পে, স্বপ্নে আর স্মৃতিতে ,
আমার নিঃশ্বাস, বিশ্বাস ও নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাসে।
মানুষ মাত্রই মরে যায়,
মরে না তার রেখে যাওয়া স্মৃতি, খুনসুটি
কিছু মানুষ মরে গিয়েও বেঁচে থাকে মানুষের ভীড়ে।
আমাদের না ভোলা অতীত স্মৃতিতে
তুইও আগের মতোই বেঁচে আছিস, বন্ধু
এবং বেঁচে থাকবি হয়তো অনন্তকাল।
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
খুলনা

শবে বরাত, আমার প্রার্থনা

 

শবে বরাত, আমার প্রার্থনা
ইমরুল কায়েস
আজ পবিত্র শবে বরাত, মহিমান্বিত রজনী।
আকাশ ভরা ঐশী আলোর হাতছানিতে
মাতোয়ারা সমগ্র মুসলিম জাহান,
অজস্র তারার ভীড়ে রহমতের পেয়ালা নিয়ে
সুবহে সাদিক পর্যন্ত অপেক্ষায় আছে ফেরেশতারা।
স্নিগ্ধ বাতাসে ভেসে আসছে দোয়ার মিনতি,
ক্ষমার দরজায় দাঁড়িয়ে আছি আমরা গুনাহগার।
হে আমার রব, হে আমার প্রদীপ্ত প্রতিপালক,
এই মহিমান্বিত রজনীর উসিলায়
তুমি আমাদের ক্ষমা করে দাও। তোমার রহমতের
শামিয়ানায় আমাদের স্থান করে দাও।
দু’চোখে অশ্রু নিয়ে, দু’হাত প্রসারিত করে
তোমার আরশে এ আমার পবিত্র প্রার্থনা।
এই পবিত্র রাত, লিখে দেয় তাকদীরের খতিয়ান,
ভুলে ভরা জীবন, ফিরে পেতে চায় কুরআনের পথ,
হে আমার ক্ষমাশীল প্রতিপালক,
ক্ষমা করো আমাদের সমস্ত ভ্রান্তি,
হৃদয় প্রান্তরে ঢেলে দাও অবিরাম রহমতের বর্ষণ।
মসজিদের মিনারে আজ কান্নার সুর বাঁজে,
সিজদায় নত আছে অজস্র সমর্পণকারী
গৃহে গৃহে আল কুরআনের অনুরণন শুনছি।
হাত তুলে, প্রাণ খুলে, ক্ষমা চায় তোমারই বান্দা—
হে পরম করুণাময়, সার্বজনীন ভাগ্য-বিধাতা
হৃদয় থেকে আমার সমস্ত অন্ধকার তুলে নাও,
ললাটে এঁকে দাও ক্ষমা ও রহমতের মহিমা;
মনের আঙিনা ভরে উঠুক তোমার নূরের ঝর্ণাধারায়।
অনুপম পূর্ণতায়...
তুমি লিখে দাও আমার এই জীবনের সাওদা।
এই পবিত্র রজনীতে ফরিয়াদ শোনো, হে প্রভু
তুমি আমাদের রহমত, মাগফেরাত ও নাজাত দাও।
পাপের প্রশস্ত সাগর ছেড়ে তুমি আমাদের
আলোর পথে ফিরে আসার ঈমানী শক্তি দাও।
এই পবিত্র রাত হোক বদলে যাওয়ার অঙ্গীকার,
তোমার রহমতে ভরে উঠুক জীবনের প্রতিটি ভোর,
অন্ধকার ঘুঁচে যাক সমগ্র জিন্দেগীর
এই পবিত্র রজনীতে
আমি আমার মৃত স্বজনের গুনাহ মাপের জন্য
বিনম্র চিত্তে মিনতি করছি,
হে আমার রব, তুমি তাদেরকেও ক্ষমা করে দাও।
রব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানী সগিরা
রব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানী সগিরা।
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
শবে বরাত
খুলনা