Wednesday, July 15, 2026

মৌমিতা

 

কবিতা || মৌমিতা
ইমরুল কায়েস
 
তোমাকে ভালোবাসার পর আমি বুঝে গেছি—মানুষ শুধু হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে না, অস্থি-মজ্জ্বা দিয়েও ভালোবাসে। এক জনমের ভালোবাসা পূর্ণতা না পেলেও ভালোবাসা সফল হতে পারে; স্মৃতি নিয়েও আমৃত্যু বেঁচে থাকা যায়।
 
তুমি আমার প্রতিটি স্মৃতির ভেতর ধীরে ধীরে জন্ম নেওয়া এক আলোকছটা। পৃথিবীর অসংখ্য মানুষের ভীড়েও আমি তোমার পদচিহ্ন অবলীলায় চিনে নিতে পারি, কারণ আমার আত্মা তোমার উপস্থিতির ভাষা শিখে ফেলেছে।
 
তুমি যখন হাসো, মনে হয় দীর্ঘ অনাবৃষ্টি শেষে কাঙ্ক্ষিত প্রথম বৃষ্টির ফোঁটা নেমেছে আমার ভেতরের শুষ্ক মরুভূমিতে। তুমি যখন নীরব থাকো, সেই নীরবতাও এক অপূর্ব কবিতা হয়ে ঘিরে রাখে আমার মননের বেলকনি। তোমার চোখে আমি কোনো সাধারণ দৃষ্টি দেখি না; সেখানে দেখি এমন এক আকাশ, যেখানে আমার সব ভাঙা-স্বপ্নের টুকরোগুলো সাজানো রয়েছে থরে থরে।
 
আমি তোমাকে পাওয়ার জন্য ভালোবাসি না; আমি ভালোবাসি কারণ তোমাকে ভালোবাসতে পারাটাই আমার জন্য আশীর্বাদ। তুমি কাছে থাকো বা দূরে, তোমার নাম আমার বুকের ভেতরে এমনভাবে প্রতিধ্বনিত হয়, যেন প্রতিটি স্পন্দনে তোমারই উচ্চারণ লেপটে আছে।
 
যদি কোনো একদিন পৃথিবীর সব আলো নিভে যায়, সব আঁধার ঢেকে দেয় কল্পনার সম্রাজ্য আমার তবু তোমার স্মৃতির ক্ষুদ্র প্রদীপটুকু নিয়ে আমি অনন্ত পথ হেঁটে যেতে পারবো। যদি সব শব্দ হারিয়ে যায়, তবু তোমার নামটুকুই আমার শেষ কবিতা হয়ে জ্বলে থাকবে।
 
মৌমিতা, ভালোবাসা কখনো কেবল হাত ধরে পথ চলার নাম নয়। ভালোবাসা হলো এমন এক আস্থা, যেখানে দু’টি আত্মা নীরবে একে অপরের জন্য প্রার্থনা করে। আমি চাই না সময় তোমাকে বদলে দিক; আমি চাই সময় সাক্ষী থাকুক—একটি হৃদয় কত গভীরভাবে আরেকটি হৃদয়কে ভালোবাসতে পারে।
 
তাই আজো আমার সমস্ত কবিতা, সমস্ত নীরবতা, সমস্ত স্বপ্ন আর প্রার্থনার শেষ পংক্তির নাম —কেবলই মৌমিতা।

২৩ আগস্ট ২০২৪ খ্রি.
কিছুক্ষণ, খুলনা



জীবনান্বেষণ

 

কবিতা || জীবনান্বেষণ
ইমরুল কায়েস
মানুষ তার জীবন নিয়ে যতোটুকু ভাবে
তার চেয়ে ঢের বেশি ভাবে জীবনের প্রয়োজন নিয়ে,
যে আলো নিয়ে মানুষ জন্ম নেয়, সে আলোর অর্থ
বুঝতে বুঝতেই তার চুলে জমে রূপালি ধুলো।
আমরা সবাই কোনো না কোনো নদীর মতো—
উৎস জানি, গন্তব্য জানি না।
পথের বাঁকে বাঁকে খুঁজে পাই শুধুই শেখারপাঠ
কীভাবে ভাঙতে হয়, কীভাবে আবার গড়তে হয়।
সুখ কখনো জীবনের স্থায়ী ঠিকানা নয়,
দুঃখও নয় কোনো চিরস্থায়ী কারাগার;
দু'জনেই পথিক; কিছু দূর পাশাপাশি হেঁটে যায়,
আবার হারিয়ে যায় অদৃশ্য দিগন্তে,
অথচ, সুখ-দুঃখকে নিয়ে আমাদের কতোই না গবেষণা!
জীবন আমাকে শিখিয়েছে ঢের—
সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়াই প্রজ্ঞা নয়,
কিছু প্রশ্নের উত্তর না জেনেও তাকে ভালোবাসা,
তাকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে পারাও এক ধরনের জ্ঞান।
যে বৃক্ষ ঝড়ের কাছে মাথা নত করে, সে পরাজিত নয়;
বরং, সে বেঁচে থাকার শিল্প আয়ত্ত্ব করে।
আর যে মানুষ পরাজয়ে না ভেঙ্গে -
প্রতিটি ক্ষতকে অভিশাপ না ভেবে অভিজ্ঞতা বানায়,
সে সময়ের কাছ থেকে শিখে নেয় অমরত্বের ভাষা।
আমরা যা হারাই, তার সবটুকুই হারানো নয়;
কিছু কিছু প্রস্থান, ভেতরে নতুন দরজা খুলে দেয়।
কিছু কিছু শূন্যতা সীমাহীন বেদনার সমুদ্র পেরিয়ে
নক্ষত্রের মতো জ্বলে ওঠে আত্মার আকাশে।
তাই, এখনো বিশ্বাস করি—
জীবনের সবচেয়ে বড় বিজয় শিখরে পৌঁছানো নয়,
বরং প্রতিটি ধূলিকণায় অস্তিত্বের বিস্ময় খোঁজা,
কারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত তার অর্জনের সমষ্টি নয়,
গভীর জীবন-বোধের অনাবিষ্কৃত গভীরতা।
আর জীবন— সে তো এক দীর্ঘ কবিতা!
যার প্রতিটি অক্ষর, বিরামচিহ্নের মধ্যেও
লুকিয়ে থাকে রহস্যময় অনন্তের স্পন্দন।

১৩ জুন ২০২৬ খ্রি. || ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ব.
কিছুক্ষণ, খুলনা

থিম সং

 

প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬
থিম সং || মো: ইমরুল কায়েস
 
স্থায়ী
বাংলার মাঠে ঘাসে, তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে 
টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া জুড়ে বিজয়ের জয়োগান,
লাল-সবুজের ক্যানভ্যাস জুড়ে লক্ষ নতুন প্রাণ…
খেলছে তরুণ, খেলছে বেশ, সবার আগে বাংলাদেশ
জিতবে তরুণ, জিতবে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ ...
 
অন্তরা ০১
একটি গোলে স্বপ্ন পূরণ প্রাইম মিনিস্টার ফুটবল 
প্রাণের মেলায় মিলবে সবাই
নতুন ভোরের নতুন দল
বিজয় নিশান তুলে ধরতে দলগুলো সব খেলছে বেশ…
খেলছে তরুণ, খেলছে বেশ, সবার আগে বাংলাদেশ
জিতবে তরুণ, জিতবে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ ...
 
অন্তরা ০২
হার জিত নয় খেলার মাঝে বন্ধুত্বের হবে জয়
একতা আর শৃঙ্খলাতে আগামীর দেশ পরিচয়
নতুন প্রাণের নতুন স্বপ্নে উঠবে গড়ে বাংলাদেশ …
খেলছে তরুণ, খেলছে বেশ, সবার আগে বাংলাদেশ
জিতবে তরুণ, জিতবে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ ...
 
 
১৫ জুলাই ২০২৬ খ্রি.
কিছুক্ষণ, খুলনা

Saturday, July 11, 2026

 

ইসলামী গজল
ইমরুল কায়েস আল হামদুলিল্লাহ! আল্লাহ মহান
আকাশ-বাতাস সবই তেমারই দান
যে দিকে তাকাই সে দিক তোমার সাগর -নদী সবই তোমার।
নিঝুম রাতে দেখি তারায় তারায়
খোঁদাই করা তোমার নামের খিলান
লাখো কোটি ঐ ফিরেশতারারা রুকু আর সেজদাতে নিমজ্জমান
তোমার বিধান সে তো মানতে হবেই সেটাই তো তোমার পরম অবদান। হে রাব্বুল আলামিন করুনার সাগর
তুমি ক্ষমাশীল মালিক মহান
আমার সকল গুনাহ মাফ করে দাও তওবা ইসতেগফার বাতিল করে দাও
যত বদি আমার নেকী করে দাও
তুমি মেহেরবান দয়ার সাগর রেখেছো জারী করে তার ফরমান। আল হামদুলিল্লাহ! আল্লাহ মহান
আকাশ-বাতাস সবই তেমারই দান
যে দিকে তাকাই সে দিক তোমার সাগর -নদী সবই তোমার।

Sunday, May 31, 2026

ক্লিওপেট্রা

 

ক্লিওপেট্রা || ইমরুল কায়েস

কোন্ উপমায় উপমিত করবো তোমায়, রাণী ক্লিওপেট্রা! তুমি তো নীল নদের বুকে ভেসে থাকা এক অবিনশ্বর শ্বেতস্বর্ণপদ্ম—যার পাপড়িতে জমা ছিল সাম্রাজ্যের গৌরব, রাজনীতির প্রজ্ঞা, অর্থনীতির জটিল সমীকরণ এবং প্রেমের গভীরতম দীর্ঘশ্বাস।

তোমাকে মনে পড়লে চোখের সামনে ভেসে ওঠে প্রাচীন মিশরের উন্মুক্ত আকাশ; যেখানে পিরামিডগুলো দাঁড়িয়ে আছে জমাটবাঁধা সময়-পর্বতের মতো, আর তাদের নীরবতার মধ্যে তোমার পদধ্বনি আজও প্রতিধ্বনিত হয়।

তুমি ছিলে মরুভূমির মাঝে জন্ম নেওয়া এক অলৌকিক মরূদ্যান। তোমার সৌন্দর্য কেবল শরীরে কিংবা অবয়বে ছিল না; তা ছিল এমন এক দুর্দমনীয় চৌম্বক শক্তি, যা রোমের শক্তিশালী সম্রাটদেরকেও নিজের কক্ষপথে অনায়াশে টেনে আনতে পারতো। তোমার দৃষ্টি ছিল স্ফিংক্সের রহস্যের মতো গভীর, যেখানে ইতিহাস তার অপ্রকাশিত অধ্যায়গুলো লুকিয়ে রাখতো। তোমার কন্ঠের হায়রোগ্লিফিক্স, নীল নদের স্রোতের মতো—কখনো শান্ত, কখনো প্রবল, কিন্তু সর্বদা সঞ্জীবনী শক্তির আধার।

যখন রোম তার ঈগল-ডানা মেলে পৃথিবীকে গ্রাস করতে চাইছিল, তুমি তখন ছিলে অস্তগামী সূর্যের শেষ সোনালি রেখার মতো—ক্ষণস্থায়ী অথচ বিস্ময়কর। তোমার মধ্যে জুলিয়াস সিজার  দেখেছিলেন রাজনীতির প্রখর বুদ্ধিমত্তা; মার্ক অ্যান্টনি খুঁজে পেয়েছিলেন হৃদয়ের অতল সমুদ্র। কিন্তু, তুমি তাদের কারোরই ছায়া ছিলে না; তুমি ছিলে নিজেই একটি স্বর্ণযুগ, একটি অহঙ্কারী সভ্যতা, একটি স্বতন্ত্র প্রভাবশালী নক্ষত্রমণ্ডল।

তোমার প্রাসাদ পাথর ও স্তম্ভের সমাবেশ ছিল না কেবল; তা ছিল জ্ঞানের উদ্যান, যেখানে দর্শন, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং মনময় শিল্প-কবিতা একই আকাশের নিচে প্রস্ফুটিত হতো। তোমার চিন্তা ছিল আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগারের মতো বিস্তৃত; যতই তাকে পড়া যায়, ততই নতুন নতুন কক্ষ উন্মোচিত হয়। আজ পিরামিডের গায়ে সহস্র বছরের ধুলো জমেছে। এখন রোমান সাম্রাজ্যের স্থান হয়েছে ইতিহাসের পাতা। বিজয়ী বীরদেরদের তলোয়ারে ধরেছে মরিচা। কিন্তু, তোমার নাম এখনও বেঁচে আছে, স্বমহিমায়। কারণ কিছু মানুষ রাজ্য শাসন করে, আর কিছু মানুষ শাসন করে প্রবাহমান সময়কে।

ক্লিওপেট্রা, তুমি ছিলে সেই বিরল ভাগ্যবতীদের একজন, যার জীবন ইতিহাসের বুকে ধূমকেতুর মতো জ্বলেছে—ক্ষণিকের জন্য নয়, যুগের পর যুগ আকাশকে আলোকিত করার জন্য। তোমার কীর্তি আজো নীল নদের জলে ভাসমান চাঁদের প্রতিবিম্বের মতো; স্পর্শ করা যায় না, অথচ ভুলে যাওয়াও যায় না। তোমার স্মৃতি যেন প্রাচীন মিশরের বালুকণায় লুকিয়ে থাকা এক স্বর্ণমুদ্রা; যতবার ইতিহাস তার মুঠো খুলে দেয়, ততবার নতুন দীপ্তিতে জ্বলে ওঠে তোমার নাম— ক্লিওপেট্রা।

৩০ মে ২০২৬ খ্রি. || ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ব.
কিছুক্ষণ, খুলনা, বাংলাদেশ


Friday, May 29, 2026

বিদ্রোহী কবি নজরুল

 

বিদ্রোহী কবি নজরুল
ইমরুল কায়েস
বাংলার সাহিত্যাকাশে তুমি এসেছিলে
ধুমকেতুর মতো, অগ্নি-স্ফুলিঙ্গ হয়ে,
অন্ধকারে ঘুমিয়ে থাকা এক দিক-ভ্রান্ত জাতির বুকে
পাহাড় ফাঁটা বজ্রের শব্দ হয়ে।
তোমার কণ্ঠে ছিল মহাবিদ্রোহের টর্নেডো,
আর পাললিক হৃদয়ে ছিল প্রদীপ্ত প্রেমের নরম বৃষ্টি।
তুমি শিখিয়েছিলে—
মানুষের চেয়ে বড় কোনো পরিচয় নেই আর।
হে সাম্যর কবি নজরুল, এই অস্থির পৃথিবীতে
তোমার কলম কখনো হয়েছে তলোয়ার,
কখনো আবার প্রার্থনার পবিত্র দীপশিখা,
মসজিদের আজান আর মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনিকে
তুমি একই আকাশের নীচে
একই ছন্দে-তালে মিলাতে চেয়েছিলে।
তোমার কবিতায় ধর্ম ছিল মানবতার আরেক নাম,
আর ভালোবাসা ছিল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম সত্য।
যখন জালিমের খড়গ উঁচু হয়ে উঠেছিল,
তুমি বিদ্রোহী হয়ে দাঁড়িয়েছিলে মানুষের পাশে।
তোমার গানে জেগে উঠেছিল শিকলবন্দী প্রাণ,
তোমার গানে কেঁদেছিল নিঃস্ব মানুষের হৃদয়।
হে মানবতার কবি, তুমি শুধু কবি নও—
তুমি এক অনিঃশেষ অগ্নিশিখা, জাগরণের নাম
যে নাম অজস্র তরুণ হৃদয়ে
স্বাধীনতার স্বপ্ন জ্বালিয়ে রেখেছে আজো...
বাংলার আকাশে যতোদিন ভোরের আলো ফুটবে,
ততোদিন তোমার কবিতা নদীর মতো বয়ে যাবে
বিপ্লব-স্পন্দিত অজস্র বাঙালির মুখে মুখে।
শিশিরভেজা সকালে, আঁধার-রাঙা সন্ধ্যায়,
প্রেমে, দ্রোহে আর প্রতিবাদে—
তোমাকেই ফিরে পাবে অহঙ্কারী বাংলা।
হে বিদ্রোহী কবি, প্রেমের কবি নজরুল
তোমার নাম উচ্চারণ করা মানে
হিমালয়ের মতো মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো,
তোমাকে স্মরণ করা মানে
শৃঙ্খল ভেঙ্গে সামনে এগোনোর অদম্য সাহস,
শ্রেণিহীন, বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক চেতনায়
দেশ গঠনের এক প্রদীপ্ত শপথ...
২৩ মে ২০২৬ খ্রি. || ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ব.
খুলনা

Friday, May 8, 2026

River Naboganga

 

River Naboganga
Imrul Kayes
I was a barefooted child on your muddy shore,
O Naboganga, my first playmate
My laughter once skipped across your ripples
Like flat stones racing the current along.
Small wooden boats swayed beside the ghat
Their ropes creaking in the golden sun;
Fishermen called out across your breast,
And the day’s long journey had just begun.
I learned to swim in your gentle arms,
Splashing where the water kissed the sand;
Mother’s voice echoed from the courtyard far—
“Come back before the light leaves the land!”
At evening, when the sky turned amber-red,
The azaan floated from the village mosque,
Drifting softly over your quiet waves,
Melting into twilight’s tender hush.
Your waters carried that sacred call
Far beyond what eyes could see—
As if even you bowed your flowing head
In silent, endless reverie.
In monsoon months you grew fierce and wide,
Overflowing fields in a restless sweep;
We watched from doorways, half afraid,
As thunderclouds began to weep.
Yet even in flood, in your roaring might,
You were never a stranger to me—
Just a mother scolding her careless child,
Wild, but loving endlessly.
Winter mornings wrapped you in silver fog,
Boats emerging like dreams from sleep;
I walked along your banks with quiet thoughts
The secrets only rivers keep.
O Naboganga, you are stitched in my veins!
In every memory, every breath I take
If I ever leave your tender shore,
It is you my restless heart will ache for.
I never forget your crystal clear water.
For you are not merely a river that flows—
You are my childhood, my beloved home.
I can't ever forget you, darling.
07 February 2024
Nohata, Magura.

কবি সম্রাট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

কবি সম্রাট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ইমরুল কায়েস

ভোরের শিশিরভেজা নরম রোদের মতো
ভেসে আসে তোমার গান, কেঁপে ওঠে সুনির্মল বাতাস—
‘আমার সোনার বাংলা’র সুরে, অজানা গহীন সুদূরে
শুনতে পাই নতুন দিনের নতুন আহ্বান।
হে কবি গুরু, বাঙালির অহঙ্কার,
তুমি শুধু কবি নও, তুমি কবিদের কবি।
তুমি কবির হৃদয়ে আঁকা এক অবিনশ্বর ছবি,
বাংলার সাহিত্যাকাশে তুমি এক অনন্ত নক্ষত্র।
তোমার কবিতা মানে নদীর ঢেউ, শিউলি-ঝরা ভোর,
কৃষ্ণচূড়ার আগুনরাঙা প্রেম, মানব-মুক্তির মন্ত্র
আটপৌরে বাঙালির পরাবাস্তব স্বপ্ন।
হে অগ্রজ কবিবর, আজ তোমার শুভ জন্মদিনে
গঙ্গা-পদ্মার জলতরঙ্গ গেয়ে ওঠে প্রশান্তির গান,
ভোরের শালিক ডাকে ছাতিমের ডালে,
তোমার স্বেতশ্মাশ্রুর মতো কাশফুলের কোমল প্রাণ
দুলে ওঠে বারবার নবগঙ্গা তীরে।
তোমার “গীতাঞ্জলি”র প্রতিটি পঙক্তি
বাঙালির হৃদয় ছুঁয়ে যায়। অন্ধকারে পথ হারালে
তোমার অভিজাত শব্দকাহন আলো হয়ে জ্বলে ওঠে।
তোমার কবিতায় তুমি শিখিয়েছো...
কবিতা মানে শুধু একগুচ্ছ শব্দের সমাহার নয়,
অজস্র জীবনের বুদবুদ...
ভালোবাসা মানে শুধু কাছে পাওয়া নয়,
হৃদয়ের দরোজা খুলে দেওয়া, সৌরভ ছড়ানো...
স্বাধীনতা মানে
মাথা উঁচু করে সত্যের পথে অবিরাম হেঁটে চলা।
হে কবি সম্রাট, রবীঠাকুর
এই খররৌদ্রদগ্ধ তপ্ত বোশেখে, তোমার জন্মদিনে
শ্রদ্ধার শরোবরে শুভ্র পুষ্পাঞ্জলি ভাসালাম...
যতদিন বেঁচে থাকবে বাঙালি ও বাংলা ভাষা
ততদিন বেঁচে থাকবে তোমার কবিতা,
বাঙালির মননে, হৃদয়ের গহীনে, হৃদ-স্পন্দনে।
০৮ মে ২০২৬ খ্রি.
২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ ব.
খুলনা

Tuesday, April 28, 2026

The Spring Song

 


The Spring Song
Imrul Kayes

It's spring in my hutch, in me, in my land
Oh, darling! Oh, darling!
Where're you now wandering?
Hey, baby! My baby!
It's time for you, for me to pass
Miss you, my darling, 
I miss you so very much.

My baby, you may be an Asian pie
In spring , he darling, why're you so shy?
Let's sing, let's dance
let me have a crazy touch.
Feel you, I feel you, so very much.

My bay, I feel you from the core
In what sense, you make me so poor?
Let's hug, let's tug
Let me have a yammy huss
Love you, I love you so very much.

23 August 2000
Kichukshan, Khulna

Monday, April 27, 2026

The Angels of Tham Luang Cave

 

The Angels of Tham Luang Cave
IMRUL KAYES
Some angels were confined in the Tham Luang Cave
The Nature seemed to be very brutal to them
They were dreaming to have a birthday celebration.
Their adventure was full of fantasies and excitements
And their return was abrupted.
Cruel disaster was waiting for them.
The angels fell into the death-jaw
And, so were their caretaker; the coach.
The whole world and the Heaven
Were melting for a prayer for them.
The God Himself took part in this mourning.
Therefore, the angels were rescued.
The sky and the Heaven are now waiting for the reconciliation.
God lives absolutely in mass prayers.

Note:
In June/July 2018, a junior association football team became trapped for nineteen days in Tham Luang Nang Non, a cave system in Chiang Rai province, Thailand.
17 June 2018
Khulna

হামদ এ এলাহী

 

হামদ এ এলাহী
ইমরুল || কায়েস
গভীর রাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়
মনে পড়ে যায় প্রভু, মনে পড়ে যায়
জায়নামাজে তোমার দিদার খুঁজি
অশ্রু জলের ফোঁটা ডাকে তোমায়।
রাত্রি গভীর হলে, মায়ার আঁধার নামে
তন্দ্রা ফেরি করে ঘুমায় আঁখি
আঁকাশ বাতাস ফুঁড়ি, সাগর পাহাড় খুঁজি
তোমায় খুঁজে ফিরি আল্লাহ মাফি
কলরব থেমে গেলে, গহীন রাতের মায়ায়
আশ্রয় খোঁজে শুধু তোমার ক্ষমায়।
রাত্রি গভীর হলে ভীষণ একা লাগে
তোমাকে দেখি না প্রভু, করি অনুভব
তোমার আশীষ পেতে ঐশী আলোর রথে
তোমায় খুঁজে ফিরি আল্লাহ মাফি
কোলাহল থেমে গেলে, নিমগ্ন হৃদয় নিয়ে
প্রার্থণা করি শুধু মুক্তির আশায়।

রাসুল বন্দনা

 


রাসুল বন্দনা
ইমরুল || কায়েস
আকাশ জানে, বাতাস জানে, জানে আমার রব
রাসূল তোমার মিষ্টি নাম যে হৃদয়ের কলরব
ভালোবাসার কুসুম তুমি, হৃদয়ের মরুদ্দানে
তাই তো তোমার নাম লিখেছি বুকের মধ্যিখানে,
আমার বুকের মধ্যিখানে...
তুমি না এলে সৃষ্টি হতো না পৃথিবী চন্দ্র তারা
তুমি না এলে সূচনা হতো না মানব জীবনধারা
তুমিই মোদের মহন ত্রাতা হাশরের ময়দানে,
তাই তো তোমার নাম লিখেছি সিনার মধ্যিখানে
আমার সিনার মধ্যিখানে...
রবের সামনে যখন আমরা হয়ে যাবো জড়সড়
পাপের হিসাব ছোট করে দিও পূণ্য দেখাইও বড়
শেষ বিচারে পুলসেরাত আর হাশরের ময়দানে
তোমার আশীষ যেন পাই যেতে স্বর্গের উদ্যানে
প্রিয় স্বর্গের উদ্যানে।

আসসালাম স্বাগতম হে রাসুল (স.)

 


আসসালাম স্বাগতম হে রাসুল (স.)
ই ম রু ল কা য়ে স
আসসালাম, স্বাগতম, হে রাসুল (স.)
হাশরের ময়দানে যেন পাই তোমার সাফায়াত।
আঁধার যখন তাবৎ পৃথিবী চেয়েছিল গিলে খেতে
নৈতিকতা ভেসে গিয়েছিল অবক্ষয়ের স্রোতে
ঐশি আলোর ঝর্ণা হয়ে রবের আরশ থেকে
তখন তুমি নেমে এলে এ পাপের ধরণীতে।
যখন পাপে ডুবে গিয়েছিল আরবের মসনদ
ঘরে ঘরে ছিল নগ্ন নৃত্য, সুদ ঘুষ জুয়া মদ
পাপের সাগর আরব জাহান যখন দিশাহীন
তখন তুমি তাদের দেখালে নতুন আশার পথ।
বিবেক যখন পরাজিত হলো, মূর্তি হলো চালক
অন্ধকারে নিভে গিয়েছিল সভ্য জাতির আলোক,
যখন আরব অসহায় ছিল লালসার কাছে হেরে
তখন তুমি প্রেরিত হলে, দেখালে রবের ঝলক।
আসসালাম, স্বাগতম, হে রাসুল (স.)
তুমি আমাদের আলোকের পথ দেখাও।
যখন তুমি প্রেরিত হলে খুললো বন্ধ দ্বার
বিতাড়িত হলো সমাজের মাঝে গুমোট অন্ধকার
তুমি দেখালে সোনার আলোয় উদ্ভাসিত ভূবণ
তোমায় পেয়ে থেমে গেলো ধূধূ মরুর হাহাকার।
তুমি এনে দিলে ঐশি কিতাব পবিত্র ‘আল কুরআন’
মানব জাতির জীবনাদর্শ , পূর্ণ জীবন বিধান
তুমি পড়লে, ‘ইকরা বিইসমি রাব্বিকাল্লাজি খলাক’
শোনালে যখন , আনলো ঈমান সমগ্র আরব জাহান।
বন্ধ হলো মূর্তি পুজো, দেহ পুজোর স্বপ্ন বিলাস
তিক্ত নষ্ট অতীত ভুলে সৃষ্টি হলো নতুন সমাজ
মূর্তিগুলো নত হলো খুলে ফেলে আলখাল্লা
ঘোষণা দেয় মালিক মোদের অদ্বিতীয়, এক আল্লাহ।
আসসালাম, স্বাগতম, হে রাসুল (স.)
তুমি আমাদের বেহেশতের পথ দেখাও।
তুমি না এলে সৃষ্টি হতো না পৃথিবী চন্দ্র তারা
তুমি না এলে মিষ্টি হতো না মানব জীবন ধারা
তুমি না এলে কে আমাদের এনে দিতো রহমত
তুমি না এলে কে চিনাতো নাজাতের সরু পথ?
শেষ বিচারে পুলসেরাত আর হাসরের ময়দানে
তোমার আশীষ যেন পাই যেতে স্বর্গের উদ্যানে
তোমাকে ছাড়া পাবো কি বেহেশত, কে দেখাবে দিশে
পাবো কি নাজাত, ছুটবো কোথায় মুক্তির সন্ধানে?
মানবতার পথপ্রদর্শক নবীকূল শিরোমনি
তুমিই মোদের হৃদস্পন্দন, মমতার মহাখনি
শেষ বিচারে যখন আমরা হয়ে যাবো জড়সড়
পাপের হিসেব ছোট করে দিও, পূণ্য দেখাইও বড়।
আসসালাম, স্বাগতম, হে রাসুল (স.)
হাশরের ময়দানে যেন পাই তোমার সুপারিশ।
(পবিত্র সিরাতুন্নবী (স.) উপলক্ষে রচিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ)