Saturday, August 8, 2026

 

কলাগাছি
ইমরুল কায়েস

ইদানীং যখন-তখন হৃদমাঝারে চিমটি কাটো,
মনে করাও-এখনো তুমি ভালোবাসো আগের চেয়ে ঢের বেশি।
এই ভেবে নিজের প্রতি আমি ভীষণ বিরক্ত হই; মনে হয়
ইট-পাথরের সংসার ছেড়ে, চাকরি ছেড়ে, শহর ছেড়ে  
তোমার ডাকে সাড়া দেই, তোমার বুকেই ফিরে যাই আবার।
 
তুমি এখন বুকের ভিতোর খেকে বেরিয়ে আসা দীর্ঘশ্বাস;
এক অদৃশ্য সর্বগ্রাসী মায়াবী টান
চোখ বন্ধ করলেই তুমি বাহির থেকে ভিতোরে আসো
তোমার ভেজা মাটির গন্ধ, ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির,
মায়াবী শ্যামলিমা, আমাকে অনবরত টেনে নেয়।
চোখ বন্ধ করলেই টেনে নেয় ইছামতি বিল
লক্ষ্মীকাজল, লক্ষ্মীলতা, নোড়উ, বাকতুলশি,
বালাম, বোয়ালে এবং পরাঙ্গি ধানের মৌ মৌ গন্ধ।
 
হাসনাহেনা, ছাতিম, গন্ধরাজের কি যে মায়াবী ঘ্রাণ!
চোখ বন্ধ করলেই এখনো আমার নাকে এসে শুঁড়শুঁড়ি দেয়,
ডাঁসা ডাঁসা কদম ফুল, ঘরের কোণায় শিউলি ফোটা,
কানে ভাসে পরিচিত হাজার পাখির ডাক;
বলতে পারোআমার চেনা চড়ুইগুলো, ঘুঘুগুলো
মাছরাঙা, কুটুমপাখি, কাকেরছানা এখন কোথায়?
 
বাড়ির পাশে কালীগাঙ; তোমায় আমি কেমনে ভুলি?
কোথায় তোমার কই, মাগুর আর শোল, টাকি,
পাবদা, পুটি, রয়না, গুতুম?
অবিবেচক গ্রামবাসীর অত্যাচারের পরেও তুমি
মায়ার টানে আগলে রাখতে এই আমাদের
এই পারেতে বড়শি হাতে আমি থাকতাম
ঐ পারেতে জলচৌকিতে থাকতো বন্ধু ওবায়দুর,
মাছ ধরার টুকিটাকি, গল্পগুজব. খুনসুটি!
সন্ধ্যা হলেই মায়ের ছোঁড়া, মধুমাখা সেই কণ্ঠ
খোকা এখন বাড়ি আয়, সন্ধ্যা প্রায় হয়ে এলো!”
 
কলাগাছি, তুমি আমার প্রথম প্রেম, প্রথম পৃথিবী।
জন্ম নিতেই, তুমি আমার কান্না শুনেছো
হামাগুড়ি আর হাঁটতে দেখোছো
হাঁটতে গিয়ে পড়তে দেখোছো, আঁছাড় দেখেছো
তোমার মাটিতে লেপটে আছে আমার পায়ের প্রথম ছাপ,
তোমার মাঠে আমার প্রথম দৌড়,
তোমার জলে আমার প্রথম সাঁতার,
তোমার মানুষের ভিড়েই আমার প্রথম আপনজন চেনা।
সময়ের বাঁকে বাঁকে পড়ে আছে সেইসব ফেলে চিত্রকল্প
ভীরু ভীরু শৈশব ও কিশোরবেলা, খেলাধুলা
স্মৃতিগুলো আজো তুমি মায়ের মতো
নিজ আঁচলে পরম স্নেহে বেঁধে রেখেছো।
 
মনে পড়ে সেই সরু মেঠোপথ, ইছামতি বিল
বর্ষার দিনে যে পথ কাঁদায় মাখামাখি হয়ে যেত,
বর্ষাকালে লুঙ্গি পরে, খালি পায়ে স্কুলে যাওয়া-আসা
কাঁদার ভিতোর চলতে চলতে হঠাৎ আঁছাড়!
স্মৃতির ফেমের হাজার রঙের সেইসব দিনগুলো কই?
কোথায় এখন মাছ ধরার সেই মহোৎসব!
 
জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল খেলার মাঠে,
আউশের ক্ষেত পরিষ্কার করে তৈরি হতো খেলার মাঠ
যেখানে বিকেল নামলেই নেমে আসতো ফুটবলের মহোৎসব,
হারুণ চাচার বাড়ির সামনে খালের পাড়ে দাঁড়িয়াবান্ধা,
হোসেন চাচার কুয়োর পাড়ে হিজল গাছের ডালে ডালে
পাড়াশুদ্ধ দুষ্টু ছেলের মিলন মেলা, লম্ফঝম্প।
খেলার মাঠে সন্ধ্যা এলে বলতো সবাই
আরেকটু খেল, সন্ধ্যা একটু পরে আসুক
সেইআরেকটাকতখানি দীর্ঘ ছিল এখন বুঝি।

সেইসব খেলার সাথীদের মনে পড়ে খুব;
যাদের সাথে কাটানো এক একটি বিকেল
এক একটি উৎসবের মতো।
সেইসব খেলার সাথীরা কেউ আজ শহরে, কেউ দূর প্রবাসে,
কেউ হয়তো সংসারের ঘাণি টানতে টানতে
গোটা শৈশবটাকেই ভুলে গেছে
ঝামারঘোপের বুড়ো বটগাছটার কথা মনে পড়ে?
গাছের নীচে বসে থাকা বয়স্ক মানুষগুলো গল্প করতো,
তাঁদের মুখে ছিল গাও-গ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য,
চোখে ছিল বহু শীত-বসন্ত পার হওয়ার শ্রান্তি-শান্তি।
 
আমি হয়তো কিছুই বলি না
চোখ বন্ধ করে মনে মনে ভাবি
জীবন যত দূরেই নিয়ে যাক আমাকে,
যতো শহর, যতো আলো, যতো অচেনা পথ
আমার সামনে খুলে যাক
সাঁঝের বেলায়, হৃদয়ের এক কোণে
নিরবে জ্বলে একটি চেনা প্রদীপ
যার নামকলাগাছি।
 
জীবনের ঘাণি টানতে টানতে ক্লান্ত হয়ে ভাবি
যদি একবার ফিরে পেতাম সেই পুরনো শৈশব, সেই কৈশোর;
সেই মেঠোপথে, সেই পুকুরঘাঠে, ইছামতি বিল
সেই পরিচিত উঠোন, সেই কালীগাঙ
সেই খালপাড়, মাছধরার গোন
যেখানে তাড়া ছিল না, ঘড়ি ছিল না 
ছিল না কোনো দায়িত্বের হিসেব,
ছিল শুধু আকাশসম সম্ভাবনার শৈশব।
 
জানি, গহীন অন্ধকার নেমে এলে জীবনে
সবাই ছেড়ে দেবে আস্থার হাত, সটকে যাবে দৃষ্টির বাহিরে,
যেই দিন খুঁজে পাবো না কাছের বন্ধুদেরও

সেই দিন যদি তোমার কাছে ফিরে যেতে চাই
তুমি দু’হাত বাড়িয়ে বুকে টেনে নেবে তো?
 
০৮ আগস্ট ২০২৬ খ্রি.
খুলনা

Friday, August 7, 2026

ইসলামবাদ কলেজিয়েট স্কুল খুলনা’র থিম সং

 

ইসলামবাদ কলেজিয়েট স্কুল খুলনা’র থিম সং
ইমরুল কায়েস

স্বপ্ন হলো পূরণ আমার স্বপ্ন হলো পূরণ
ইসলামাবাদ স্কুলে ভাই যেই রেখেছি চরণ।

বুকে আমার স্বপ্ন ছিল অনেক বড় হবো
বাবা-মায়ের চোখের মণি সবার মনে রবো
স্বপ্ন আমার চোখে মুখে স্বপ্ন ভরা মন
ইসলামাবাদ স্কুলে ভাই যেই রেখেছি চরণ।



Thursday, August 6, 2026

বি এল কলেজের ইংরেজি বিভাগের শতবর্ষপূর্তী অনুষ্ঠানের থিম সং

 

সরকারী ব্রজলাল কলেজে এর ইংরেজি বিভাগের শতবর্ষপূর্তী অনুষ্ঠানের থিম সং
ইমরুল কায়েস

এসো অগ্রজ, এসো অনুজ
এসো নতুন প্রাণের সারথীরা 
অযুত স্মৃতিমাখা ভালোবাসার এই প্রাঙ্গণে
নতুন পুরাতন খুনসুটির মেলবন্ধনে
এসো এসো, এসো এসো...

এসো একসাথে এসো বন্ধুরা
সেইসব স্মৃতিগুলো কোথায় কেমন আছে খুঁজি
যারা মনন-কানন জুড়ে শুধুই করে খোঁড়াখুঁড়ি
দলে দলে এসো মিলি নতুন প্রাণের এই বন্ধনে
এসো এসো, এসো বন্ধুরা
অযুত স্মৃতিমাখা ভালোবাসার এই প্রাঙ্গণে...

শতবর্ষের মিলনমেলার এই আয়োজনে
ব্রজলাল সরকারী কলেজ প্রাঙ্গণে 
এসো পুরাতন, এসো নতুন, এসো এসো
ইংরেজি বিভাগের শতবর্ষ উদযাপনে
এসো এসো, এসো বন্ধুরা
অযুত স্মৃতিমাখা ভালোবাসার এই প্রাঙ্গণে...

০৫ মে ২০২৪ খ্রি.
ইউনাটেড হাসপাতাল, ঢাকা

Wednesday, July 15, 2026

মৌমিতা

 

কবিতা || মৌমিতা
ইমরুল কায়েস
 
মৌমিতা, তোমাকে ভালোবাসার পর আমি বুঝে গেছি—মানুষ শুধু হৃদয় দিয়ে মানুষকে ভালোবাসে না, অস্থি-মজ্জ্বা দিয়েও ভালোবাসে। এক জনমের ভালোবাসা পূর্ণতা না পেলেও ভালোবাসা সফল হতে পারে; স্মৃতি নিয়েও আমৃত্যু বেঁচে থাকা যায়।
 
তুমি আমার প্রতিটি স্মৃতির ভেতর ধীরে ধীরে জন্ম নেওয়া এক অবিনশ্বর আলোকছটা। পৃথিবীর অসংখ্য মানুষের ভীড়েও আমি তোমার পদচিহ্ন অবলীলায় চিনে নিতে পারি, কারণ আমার পরমাত্মা তোমার উপস্থিতির ভাষা শিখে ফেলেছে।
 
তুমি যখন প্রাণখুলে হাসো, মনে হয় দীর্ঘ অনাবৃষ্টি শেষে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির ফোঁটা নেমে এসেছে আমার ভেতরের শুষ্ক মরুভূমিতে। তুমি যখন ভীষণ নীরব থাকো, সেই নীরবতাও এক অপূর্ব কবিতা হয়ে ঘিরে রাখে আমার মননের বেলকনি। তোমার চোখে আমি কোনো সাধারণ দৃষ্টি দেখি না; সেখানে দেখি এমন এক আকাশ, যেখানে আমার সব ভাঙা-স্বপ্নের টুকরোগুলো সাজানো রয়েছে থরে থরে।
 
আমি তোমাকে পাওয়ার জন্য ভালোবাসিনি; আমি ভালোবাসি কারণ তোমাকে ভালোবাসতে পারাটাই আমার জন্য আশীর্বাদ। তুমি কাছে থাকো বা দূরে, তোমার নাম আমার বুকের ভেতরে এমনভাবে প্রতিধ্বনিত হয়, যেন প্রতিটি স্পন্দনে তোমারই উচ্চারণ লেপটে আছে আস্টে-পৃষ্ঠে।
 
যদি কোনো একদিন পৃথিবীর সব আলো নিভে যায়, সব আঁধার ঢেকে দেয় কল্পনার সম্রাজ্য আমার তবু তোমার স্মৃতির ক্ষুদ্র প্রদীপটুকু নিয়ে আমি অনন্ত পথ হেঁটে যেতে পারবো। যদি সব শব্দ হারিয়ে যায়, তবু তোমার নামটুকুই আমার শেষ কবিতা হয়ে জ্বলে থাকবে।
 
মৌমিতা, ভালোবাসা কখনো কেবল হাত ধরে পথ চলার নাম নয়। ভালোবাসা হলো এমন এক আস্থা, যেখানে দু’টি আত্মা নীরবে একে অপরের জন্য প্রার্থনা করে। আমি চাই না সময় তোমাকে বদলে দিক; আমি চাই সময় সাক্ষী থাকুক, জানুক—একটি হৃদয় কত গভীরভাবে আরেকটি হৃদয়কে ভালোবাসতে পারে।
 
তাই তো আজো আমার সমস্ত কবিতা, সমস্ত নীরবতা, সমস্ত স্বপ্ন আর প্রার্থনার শেষ পংক্তির অনুরণন —কেবলই মৌমিতা।

২৩ আগস্ট ২০২৪ খ্রি.
কিছুক্ষণ, খুলনা



জীবনান্বেষণ

 

কবিতা || জীবনান্বেষণ
ইমরুল কায়েস
মানুষ তার জীবন নিয়ে যতোটুকু ভাবে
তার চেয়ে ঢের বেশি ভাবে জীবনের প্রয়োজন নিয়ে,
যে আলো নিয়ে মানুষ জন্ম নেয়, সে আলোর অর্থ
বুঝতে বুঝতেই তার চুলে জমে রূপালি ধুলো।

আমরা সবাই কোনো না কোনো এক নদীর মতো—
উৎস জানি, তার গন্তব্য জানি না।
পথের বাঁকে বাঁকে খুঁজে পাই শুধুই শেখারপাঠ
কীভাবে ভাঙতে হয়, ভেঙ্গে কীভাবে আবার গড়তে হয়।
সুখ কখনো জীবনের স্থায়ী ঠিকানা নয়,
দুঃখও নয় কোনো চিরস্থায়ী কারাগার;
দু'জনেই পথিক; কিছু দূর পাশাপাশি হেঁটে যায়,
অতঃপর হারিয়ে যায় অদৃশ্য দিগন্তে,
অথচ, সুখ-দুঃখকে নিয়ে আমাদের কতোই না গবেষণা!
জীবন আমাকে শিখিয়েছে ঢের—
সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়াই প্রজ্ঞা নয়,
কিছু প্রশ্নের উত্তর না জেনেও তাকে ভালোবাসা,
তাকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে পারাও এক ধরনের জ্ঞান।
যে বৃক্ষ ঝড়ের কাছে মাথা নত করে, সে পরাজিত নয়;
বরং, সে বেঁচে থাকার শিল্প আয়ত্ত্ব করে।
আর যে মানুষ পরাজয়ে না ভেঙ্গে -
প্রতিটি ক্ষতকে অভিশাপ না ভেবে অভিজ্ঞতা বানায়,
সে সময়ের কাছ থেকে শিখে নেয় অমরত্বের ভাষা।

আমরা যা হারাই, তার সবটুকুই হারানো নয়;
কিছু কিছু প্রস্থান, ভেতোরে নতুন দরোজা খুলে দেয়।
কিছু কিছু শূন্যতা সীমাহীন বেদনার সমুদ্র পেরিয়ে
নক্ষত্রের মতো জ্বলে ওঠে আত্মার আকাশে।

তাই, এখনো বিশ্বাস করি—
জীবনের সবচেয়ে বড় বিজয় শিখরে পৌঁছানো নয়,
বরং প্রতিটি ধূলিকণায় অস্তিত্বের বিস্ময় খোঁজা,
কারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত তার অর্জনের সমষ্টি নয়,
গভীর জীবন-বোধের অনাবিষ্কৃত গভীরতা।
আর জীবন— সে তো এক সুদীর্ঘ কবিতা!
যার প্রতিটি অক্ষর, বিরামচিহ্নের মধ্যেও
লুকিয়ে থাকে রহস্যময় অনন্তের অন্তহীন স্পন্দন।

৩ জুন ২০২৬ খ্রি. || ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ব.
কিছুক্ষণ, খুলনা

থিম সং

 

প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬
থিম সং || মো: ইমরুল কায়েস
 
স্থায়ী
বাংলার মাঠে ঘাসে, তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে 
টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া জুড়ে বিজয়ের জয়োগান,
লাল-সবুজের ক্যানভ্যাস জুড়ে লক্ষ নতুন প্রাণ…
খেলছে তরুণ, খেলছে বেশ, সবার আগে বাংলাদেশ
জিতবে তরুণ, জিতবে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ ...
 
অন্তরা ০১
একটি গোলে স্বপ্ন পূরণ প্রাইম মিনিস্টার ফুটবল 
প্রাণের মেলায় মিলবে সবাই
নতুন ভোরের নতুন দল
বিজয় নিশান তুলে ধরতে দলগুলো সব খেলছে বেশ…
খেলছে তরুণ, খেলছে বেশ, সবার আগে বাংলাদেশ
জিতবে তরুণ, জিতবে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ ...
 
অন্তরা ০২
হার জিত নয় খেলার মাঝে বন্ধুত্বের হবে জয়
একতা আর শৃঙ্খলাতে আগামীর দেশ পরিচয়
নতুন প্রাণের নতুন স্বপ্নে উঠবে গড়ে বাংলাদেশ …
খেলছে তরুণ, খেলছে বেশ, সবার আগে বাংলাদেশ
জিতবে তরুণ, জিতবে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ ...
 
 
১৫ জুলাই ২০২৬ খ্রি.
কিছুক্ষণ, খুলনা

Saturday, July 11, 2026

ইসলামী গজল

 

ইসলামী গজল
ইমরুল কায়েস
আল হামদুলিল্লাহ! আল্লাহ মহান
আকাশ-বাতাস সবই তেমারই দান
যে দিকে তাকাই সে দিক তোমার সাগর -নদী সবই তোমার।

নিঝুম রাতে দেখি তারায় তারায়
খোঁদাই করা তোমার নামের খিলান
লাখো কোটি ঐ ফিরেশতারারা রুকু আর সেজদাতে নিমজ্জমান
তোমার বিধান সে তো মানতে হবেই সেটাই তো তোমার পরম অবদান।
হে রাব্বুল আলামিন করুনার সাগর
তুমি ক্ষমাশীল মালিক মহান
আমার সকল গুনাহ মাফ করে দাও তওবা ইসতেগফার বাতিল করে দাও
যত বদি আমার নেকী করে দাও
তুমি মেহেরবান দয়ার সাগর রেখেছো জারী করে তার ফরমান।
আল হামদুলিল্লাহ! আল্লাহ মহান
আকাশ-বাতাস সবই তেমারই দান
যে দিকে তাকাই সে দিক তোমার সাগর -নদী সবই তোমার।

Sunday, May 31, 2026

ক্লিওপেট্রা

 

ক্লিওপেট্রা || ইমরুল কায়েস

কোন্ উপমায় উপমিত করবো তোমায়, রাণী ক্লিওপেট্রা! তুমি তো নীল নদের বুকে ভেসে থাকা এক অবিনশ্বর শ্বেতস্বর্ণপদ্ম—যার পাপড়িতে জমা ছিল সাম্রাজ্যের গৌরব, রাজনীতির প্রজ্ঞা, অর্থনীতির জটিল সমীকরণ এবং প্রেমের গভীরতম দীর্ঘশ্বাস।

তোমাকে মনে পড়লে চোখের সামনে ভেসে ওঠে প্রাচীন মিশরের উন্মুক্ত আকাশ; যেখানে পিরামিডগুলো দাঁড়িয়ে আছে জমাটবাঁধা সময়-পর্বতের মতো, আর তাদের নীরবতার মধ্যে তোমার পদধ্বনি আজও প্রতিধ্বনিত হয়।

তুমি ছিলে মরুভূমির মাঝে জন্ম নেওয়া এক অলৌকিক মরূদ্যান। তোমার সৌন্দর্য কেবল শরীরে কিংবা অবয়বে ছিল না; তা ছিল এমন এক দুর্দমনীয় চৌম্বক শক্তি, যা রোমের শক্তিশালী সম্রাটদেরকেও নিজের কক্ষপথে অনায়াশে টেনে আনতে পারতো। তোমার দৃষ্টি ছিল স্ফিংক্সের রহস্যের মতো গভীর, যেখানে ইতিহাস তার অপ্রকাশিত অধ্যায়গুলো লুকিয়ে রাখতো। তোমার কন্ঠের হায়রোগ্লিফিক্স, নীল নদের স্রোতের মতো—কখনো শান্ত, কখনো প্রবল, কিন্তু সর্বদা সঞ্জীবনী শক্তির আধার।

যখন রোম তার ঈগল-ডানা মেলে পৃথিবীকে গ্রাস করতে চাইছিল, তুমি তখন ছিলে অস্তগামী সূর্যের শেষ সোনালি রেখার মতো—ক্ষণস্থায়ী অথচ বিস্ময়কর। তোমার মধ্যে জুলিয়াস সিজার  দেখেছিলেন রাজনীতির প্রখর বুদ্ধিমত্তা; মার্ক অ্যান্টনি খুঁজে পেয়েছিলেন হৃদয়ের অতল সমুদ্র। কিন্তু, তুমি তাদের কারোরই ছায়া ছিলে না; তুমি ছিলে নিজেই একটি স্বর্ণযুগ, একটি অহঙ্কারী সভ্যতা, একটি স্বতন্ত্র প্রভাবশালী নক্ষত্রমণ্ডল।

তোমার প্রাসাদ পাথর ও স্তম্ভের সমাবেশ ছিল না কেবল; তা ছিল জ্ঞানের উদ্যান, যেখানে দর্শন, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং মনময় শিল্প-কবিতা একই আকাশের নিচে প্রস্ফুটিত হতো। তোমার চিন্তা ছিল আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগারের মতো বিস্তৃত; যতই তাকে পড়া যায়, ততই নতুন নতুন কক্ষ উন্মোচিত হয়। আজ পিরামিডের গায়ে সহস্র বছরের ধুলো জমেছে। এখন রোমান সাম্রাজ্যের স্থান হয়েছে ইতিহাসের পাতা। বিজয়ী বীরদেরদের তলোয়ারে ধরেছে মরিচা। কিন্তু, তোমার নাম এখনও বেঁচে আছে, স্বমহিমায়। কারণ কিছু মানুষ রাজ্য শাসন করে, আর কিছু মানুষ শাসন করে প্রবাহমান সময়কে।

ক্লিওপেট্রা, তুমি ছিলে সেই বিরল ভাগ্যবতীদের একজন, যার জীবন ইতিহাসের বুকে ধূমকেতুর মতো জ্বলেছে—ক্ষণিকের জন্য নয়, যুগের পর যুগ আকাশকে আলোকিত করার জন্য। তোমার কীর্তি আজো নীল নদের জলে ভাসমান চাঁদের প্রতিবিম্বের মতো; স্পর্শ করা যায় না, অথচ ভুলে যাওয়াও যায় না। তোমার স্মৃতি যেন প্রাচীন মিশরের বালুকণায় লুকিয়ে থাকা এক স্বর্ণমুদ্রা; যতবার ইতিহাস তার মুঠো খুলে দেয়, ততবার নতুন দীপ্তিতে জ্বলে ওঠে তোমার নাম— ক্লিওপেট্রা।

৩০ মে ২০২৬ খ্রি. || ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ব.
কিছুক্ষণ, খুলনা, বাংলাদেশ


Friday, May 29, 2026

বিদ্রোহী কবি নজরুল

 

বিদ্রোহী কবি নজরুল
ইমরুল কায়েস
বাংলার সাহিত্যাকাশে তুমি এসেছিলে
ধুমকেতুর মতো, অগ্নি-স্ফুলিঙ্গ হয়ে,
অন্ধকারে ঘুমিয়ে থাকা এক দিক-ভ্রান্ত জাতির বুকে
পাহাড় ফাঁটা বজ্রের শব্দ হয়ে।
তোমার কণ্ঠে ছিল মহাবিদ্রোহের টর্নেডো,
আর পাললিক হৃদয়ে ছিল প্রদীপ্ত প্রেমের নরম বৃষ্টি।
তুমি শিখিয়েছিলে—
মানুষের চেয়ে বড় কোনো পরিচয় নেই আর।
হে সাম্যর কবি নজরুল, এই অস্থির পৃথিবীতে
তোমার কলম কখনো হয়েছে তলোয়ার,
কখনো আবার প্রার্থনার পবিত্র দীপশিখা,
মসজিদের আজান আর মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনিকে
তুমি একই আকাশের নীচে
একই ছন্দে-তালে মিলাতে চেয়েছিলে।
তোমার কবিতায় ধর্ম ছিল মানবতার আরেক নাম,
আর ভালোবাসা ছিল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম সত্য।
যখন জালিমের খড়গ উঁচু হয়ে উঠেছিল,
তুমি বিদ্রোহী হয়ে দাঁড়িয়েছিলে মানুষের পাশে।
তোমার গানে জেগে উঠেছিল শিকলবন্দী প্রাণ,
তোমার গানে কেঁদেছিল নিঃস্ব মানুষের হৃদয়।
হে মানবতার কবি, তুমি শুধু কবি নও—
তুমি এক অনিঃশেষ অগ্নিশিখা, জাগরণের নাম
যে নাম অজস্র তরুণ হৃদয়ে
স্বাধীনতার স্বপ্ন জ্বালিয়ে রেখেছে আজো...
বাংলার আকাশে যতোদিন ভোরের আলো ফুটবে,
ততোদিন তোমার কবিতা নদীর মতো বয়ে যাবে
বিপ্লব-স্পন্দিত অজস্র বাঙালির মুখে মুখে।
শিশিরভেজা সকালে, আঁধার-রাঙা সন্ধ্যায়,
প্রেমে, দ্রোহে আর প্রতিবাদে—
তোমাকেই ফিরে পাবে অহঙ্কারী বাংলা।
হে বিদ্রোহী কবি, প্রেমের কবি নজরুল
তোমার নাম উচ্চারণ করা মানে
হিমালয়ের মতো মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো,
তোমাকে স্মরণ করা মানে
শৃঙ্খল ভেঙ্গে সামনে এগোনোর অদম্য সাহস,
শ্রেণিহীন, বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক চেতনায়
দেশ গঠনের এক প্রদীপ্ত শপথ...
২৩ মে ২০২৬ খ্রি. || ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ব.
খুলনা

Friday, May 8, 2026

River Naboganga

 

River Naboganga
Imrul Kayes
I was a barefooted child on your muddy shore,
O Naboganga, my first playmate
My laughter once skipped across your ripples
Like flat stones racing the current along.
Small wooden boats swayed beside the ghat
Their ropes creaking in the golden sun;
Fishermen called out across your breast,
And the day’s long journey had just begun.
I learned to swim in your gentle arms,
Splashing where the water kissed the sand;
Mother’s voice echoed from the courtyard far—
“Come back before the light leaves the land!”
At evening, when the sky turned amber-red,
The azaan floated from the village mosque,
Drifting softly over your quiet waves,
Melting into twilight’s tender hush.
Your waters carried that sacred call
Far beyond what eyes could see—
As if even you bowed your flowing head
In silent, endless reverie.
In monsoon months you grew fierce and wide,
Overflowing fields in a restless sweep;
We watched from doorways, half afraid,
As thunderclouds began to weep.
Yet even in flood, in your roaring might,
You were never a stranger to me—
Just a mother scolding her careless child,
Wild, but loving endlessly.
Winter mornings wrapped you in silver fog,
Boats emerging like dreams from sleep;
I walked along your banks with quiet thoughts
The secrets only rivers keep.
O Naboganga, you are stitched in my veins!
In every memory, every breath I take
If I ever leave your tender shore,
It is you my restless heart will ache for.
I never forget your crystal clear water.
For you are not merely a river that flows—
You are my childhood, my beloved home.
I can't ever forget you, darling.
07 February 2024
Nohata, Magura.

কবি সম্রাট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

কবি সম্রাট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ইমরুল কায়েস

ভোরের শিশিরভেজা নরম রোদের মতো
ভেসে আসে তোমার গান, কেঁপে ওঠে সুনির্মল বাতাস—
‘আমার সোনার বাংলা’র সুরে, অজানা গহীন সুদূরে
শুনতে পাই নতুন দিনের নতুন আহ্বান।
হে কবি গুরু, বাঙালির অহঙ্কার,
তুমি শুধু কবি নও, তুমি কবিদের কবি।
তুমি কবির হৃদয়ে আঁকা এক অবিনশ্বর ছবি,
বাংলার সাহিত্যাকাশে তুমি এক অনন্ত নক্ষত্র।
তোমার কবিতা মানে নদীর ঢেউ, শিউলি-ঝরা ভোর,
কৃষ্ণচূড়ার আগুনরাঙা প্রেম, মানব-মুক্তির মন্ত্র
আটপৌরে বাঙালির পরাবাস্তব স্বপ্ন।
হে অগ্রজ কবিবর, আজ তোমার শুভ জন্মদিনে
গঙ্গা-পদ্মার জলতরঙ্গ গেয়ে ওঠে প্রশান্তির গান,
ভোরের শালিক ডাকে ছাতিমের ডালে,
তোমার স্বেতশ্মাশ্রুর মতো কাশফুলের কোমল প্রাণ
দুলে ওঠে বারবার নবগঙ্গা তীরে।
তোমার “গীতাঞ্জলি”র প্রতিটি পঙক্তি
বাঙালির হৃদয় ছুঁয়ে যায়। অন্ধকারে পথ হারালে
তোমার অভিজাত শব্দকাহন আলো হয়ে জ্বলে ওঠে।
তোমার কবিতায় তুমি শিখিয়েছো...
কবিতা মানে শুধু একগুচ্ছ শব্দের সমাহার নয়,
অজস্র জীবনের বুদবুদ...
ভালোবাসা মানে শুধু কাছে পাওয়া নয়,
হৃদয়ের দরোজা খুলে দেওয়া, সৌরভ ছড়ানো...
স্বাধীনতা মানে
মাথা উঁচু করে সত্যের পথে অবিরাম হেঁটে চলা।
হে কবি সম্রাট, রবীঠাকুর
এই খররৌদ্রদগ্ধ তপ্ত বোশেখে, তোমার জন্মদিনে
শ্রদ্ধার শরোবরে শুভ্র পুষ্পাঞ্জলি ভাসালাম...
যতদিন বেঁচে থাকবে বাঙালি ও বাংলা ভাষা
ততদিন বেঁচে থাকবে তোমার কবিতা,
বাঙালির মননে, হৃদয়ের গহীনে, হৃদ-স্পন্দনে।
০৮ মে ২০২৬ খ্রি.
২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ ব.
খুলনা