Monday, April 27, 2026

আমার বন্ধু, প্রিয় বন্ধু ওবায়দুর (দুই)

 



আমার বন্ধু, প্রিয় বন্ধু ওবায়দুর (দুই)
ইমরুল কায়েস
আমার বন্ধু, প্রিয় বন্ধু ওবায়দুর
এই মুহূর্তে তোর নামটা ভীষণভাবে মনে পড়ছে!
শৈশবের উঠোনে শুয়ে আছে বিমর্ষ অতীত
স্মৃতিগুলো অবিরত ছড়িয়ে যাচ্ছে বিষাদের ঘ্রাণ।
মনে আছে ওবায়দুর
খেলার মাঠে কাটানো সেই মিষ্টি মধুর সময়গুলো?
তেমন কোনো কর্ম ছিল না তখন,
কিন্তু, স্বপ্ন ছিল দু’জনের চোখে- মুখে ঠাঁসা।
আমাদের অজস্র অট্টোহাসির বিকেলগুলো
মনের মাঝে অগুনতি স্বপ্ন বোনার প্রহরগুলো
হা-ডুডু, ফুটবল ও দাড়িয়াবান্ধার ছত্রগুলো ;
ধুলোমাখা হাত-পা, ভাঙা কাঁচের মার্বেল,
ফলাফল ভালো করার মধুর প্রতিদ্বন্দ্বিতা
বারবার শব্দ করে আমাকে এখনো ডাকে,
“দোস্ত, আয় তো একটুখানি খেলে আসি”।
ওবায়দুর,
বিকেল হলেই এখনো আমি তোর ডাক শুনতে পাই,
কিন্তু তোকে যে চোখে দেখতে পাই না!
সেই একই আকাশ এখনো দেখি,
সেই একই সূর্যের ওঠা-ডোবা দেখি প্রতিদিন,
স্মৃতিময় জায়গাগুলোতে তোকে দেখতে পাই না আর!
তোকে ছাড়া জীবন এখন অসম্পূর্ণ লাগে।
তোর অজস্র কথোপকথন আটকে আছে আমার কণ্ঠে,
চোখের কোণে জমে আছে তোর নিষ্পাপ দৃষ্টি।
ওবায়দুর,
তুই ছিলি আমাদের সময়ের সবচেয়ে সহজ মানুষ।
কোনো অভিনয় ছিল না তোর মাঝে,
ছিল শুধু আস্থার নিশ্চয়তা।
আজ সেই আস্থার কথাই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে।
আমরা এক সাথে বড় হইনি শুধু,
এক সাথে কেঁদেছি, এক সাথে হেসেছি
এক সাথে না খেয়ে খেলেছি সময় পেলেই,
একই কারণে মায়ের বকুনি খেয়েছি বহুবার।
আমার কান্নার সুর সবার আগে তুই শুনতিস,
এখন আমার কান্নার রোল শোনার কেউ নাই।
তোর হাসিটা ছিল অদ্ভুত রকমের সহজ
যেন দুঃখ নামক শব্দটাই তোর অভিধানে ছিল না।
তোর সেই হাসিমুখের ছবিটা
বুকের ক্যানভাসে আঁকা আছে খোঁদাই করে।
ওবায়দুর, এখন তোর নামটা উচ্চারণ করলেই
আমার শৈশবটা খানখান করে ভেঙে পড়ে—
ভাঙা খেলনা, ভেজা চোখ, টুকরো স্মৃতি
আর কিছু অসমাপ্ত কথা, ভুলি কী করে বল?
ওবায়দুর, তুই যে নেই—
এই কথাটা মানতে আমার কষ্ট হয়, সময় লাগে।
কারণ কিছু মানুষ মরে না,
তারা শুধু অসহ্য নীরবতা হয়ে বুকের মাঝে বেঁচে রয়।
আমি এখনো বুকের ভিতোর
তোর জন্য একটা জায়গা রেখে দিয়েছি,
তোর শৈশবটা তুই নিজে
আমাকে নামপত্তন করে গেছিস।
মৃত্যু তোর শরীর কেড়ে নিয়েছে ঠিকই,
কিন্তু, নিতে পারেনি তোর শৈশব,
তুই আছিস আমার গল্পে, স্বপ্নে আর স্মৃতিতে ,
আমার নিঃশ্বাস, বিশ্বাস ও নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাসে।
মানুষ মাত্রই মরে যায়,
মরে না তার রেখে যাওয়া স্মৃতি, খুনসুটি
কিছু মানুষ মরে গিয়েও বেঁচে থাকে মানুষের ভীড়ে।
আমাদের না ভোলা অতীত স্মৃতিতে
তুইও আগের মতোই বেঁচে আছিস, বন্ধু
এবং বেঁচে থাকবি হয়তো অনন্তকাল।
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
খুলনা

শবে বরাত, আমার প্রার্থনা

 

শবে বরাত, আমার প্রার্থনা
ইমরুল কায়েস
আজ পবিত্র শবে বরাত, মহিমান্বিত রজনী।
আকাশ ভরা ঐশী আলোর হাতছানিতে
মাতোয়ারা সমগ্র মুসলিম জাহান,
অজস্র তারার ভীড়ে রহমতের পেয়ালা নিয়ে
সুবহে সাদিক পর্যন্ত অপেক্ষায় আছে ফেরেশতারা।
স্নিগ্ধ বাতাসে ভেসে আসছে দোয়ার মিনতি,
ক্ষমার দরজায় দাঁড়িয়ে আছি আমরা গুনাহগার।
হে আমার রব, হে আমার প্রদীপ্ত প্রতিপালক,
এই মহিমান্বিত রজনীর উসিলায়
তুমি আমাদের ক্ষমা করে দাও। তোমার রহমতের
শামিয়ানায় আমাদের স্থান করে দাও।
দু’চোখে অশ্রু নিয়ে, দু’হাত প্রসারিত করে
তোমার আরশে এ আমার পবিত্র প্রার্থনা।
এই পবিত্র রাত, লিখে দেয় তাকদীরের খতিয়ান,
ভুলে ভরা জীবন, ফিরে পেতে চায় কুরআনের পথ,
হে আমার ক্ষমাশীল প্রতিপালক,
ক্ষমা করো আমাদের সমস্ত ভ্রান্তি,
হৃদয় প্রান্তরে ঢেলে দাও অবিরাম রহমতের বর্ষণ।
মসজিদের মিনারে আজ কান্নার সুর বাঁজে,
সিজদায় নত আছে অজস্র সমর্পণকারী
গৃহে গৃহে আল কুরআনের অনুরণন শুনছি।
হাত তুলে, প্রাণ খুলে, ক্ষমা চায় তোমারই বান্দা—
হে পরম করুণাময়, সার্বজনীন ভাগ্য-বিধাতা
হৃদয় থেকে আমার সমস্ত অন্ধকার তুলে নাও,
ললাটে এঁকে দাও ক্ষমা ও রহমতের মহিমা;
মনের আঙিনা ভরে উঠুক তোমার নূরের ঝর্ণাধারায়।
অনুপম পূর্ণতায়...
তুমি লিখে দাও আমার এই জীবনের সাওদা।
এই পবিত্র রজনীতে ফরিয়াদ শোনো, হে প্রভু
তুমি আমাদের রহমত, মাগফেরাত ও নাজাত দাও।
পাপের প্রশস্ত সাগর ছেড়ে তুমি আমাদের
আলোর পথে ফিরে আসার ঈমানী শক্তি দাও।
এই পবিত্র রাত হোক বদলে যাওয়ার অঙ্গীকার,
তোমার রহমতে ভরে উঠুক জীবনের প্রতিটি ভোর,
অন্ধকার ঘুঁচে যাক সমগ্র জিন্দেগীর
এই পবিত্র রজনীতে
আমি আমার মৃত স্বজনের গুনাহ মাপের জন্য
বিনম্র চিত্তে মিনতি করছি,
হে আমার রব, তুমি তাদেরকেও ক্ষমা করে দাও।
রব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানী সগিরা
রব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানী সগিরা।
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
শবে বরাত
খুলনা

মা, তুমি আছো আমার প্রার্থনায়

 

মা, তুমি আছো আমার প্রার্থনায়
ইমরুল কায়েস
আকাশটা আজ ভীষণ নীরব, অন্যরকম
বাতাসে কেবলই তোমার ডাক শুনছি—মা।
তোমার শূন্যতা ঘরজুড়ে, জীবন সংসার জুড়ে;
মনের ক্যানভাসে শুধুই তোমার স্মৃতির মেঘমালা।
যে হাতে ছিল মমতার ছোঁয়া, সেই হাতখানা খুঁজছি
আজ দোয়ার আকাশে ভেসে উঠছে তোমার মুখ
ঘুম পাড়ানো গল্পগুলো, কান্না-হাসির স্মৃতিগুলো
এখনো কানে বাজে মা, তোমার পবিত্র নিঃশ্বাসে।
তুমি ছিলে আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন
জীবনের প্রথম আলো, প্রথম আশ্রয়, প্রথম বিশ্বাস,
প্রতিটি ক্লান্ত সন্ধ্যায় তুমি মিশে আছো, মা
তোমার নামটাই এখন আমার প্রেরণার নিঃশ্বাস।
তুমি আজ নেই, তবু মনন আকাশ জুড়ে
শুধু তোমারই মায়াবী মুখের ছবি সাটানো
আমার সেজদায়, আমার চোখের জলে,
ভেসে ওঠে কেবলই তোমার প্রতিচ্ছবি।
হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন
তুমি আমার মা জননীকে জান্নাত নসিব করো।
রব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানি সাগিরা
রব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানি সাগিরা।
০৭ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
খুলনা

মা, তুমি আছো আমার প্রার্থনায়

 

মা, তুমি আছো আমার প্রার্থনায়
ইমরুল কায়েস
আকাশটা আজ ভীষণ নীরব, অন্যরকম
বাতাসে কেবলই তোমার ডাক শুনছি—মা।
তোমার শূন্যতা ঘরজুড়ে, জীবন সংসার জুড়ে;
মনের ক্যানভাসে শুধুই তোমার স্মৃতির মেঘমালা।
যে হাতে ছিল মমতার ছোঁয়া, সেই হাতখানা খুঁজছি
আজ দোয়ার আকাশে ভেসে উঠছে তোমার মুখ
ঘুম পাড়ানো গল্পগুলো, কান্না-হাসির স্মৃতিগুলো
এখনো কানে বাজে মা, তোমার পবিত্র নিঃশ্বাসে।
তুমি ছিলে আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন
জীবনের প্রথম আলো, প্রথম আশ্রয়, প্রথম বিশ্বাস,
প্রতিটি ক্লান্ত সন্ধ্যায় তুমি মিশে আছো, মা
তোমার নামটাই এখন আমার প্রেরণার নিঃশ্বাস।
তুমি আজ নেই, তবু মনন আকাশ জুড়ে
শুধু তোমারই মায়াবী মুখের ছবি সাটানো
আমার সেজদায়, আমার চোখের জলে,
ভেসে ওঠে কেবলই তোমার প্রতিচ্ছবি।
হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন
তুমি আমার মা জননীকে জান্নাত নসিব করো।
রব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানি সাগিরা
রব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানি সাগিরা।
০৭ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
খুলনা

মা, তোমার স্মৃতি আমার অমূল্য সম্পদ

 

মা, তোমার স্মৃতি আমার অমূল্য সম্পদ
ইমরুল কায়েস
এখনো ভোর হলে মনে হয়,
মা, তুমি আমার নাম ধরে ডাকছো।
বলছো, “উঠেছিস, খোকা? দেরি হয়ে যাচ্ছে তো।”
তোমার ডাক ছাড়া আমার সকালের ঘুম ভাঙে না,
ভেঙে যায় কেবল বুকের ভেতরটা।
তোমার আঁচলের গন্ধ এখনো আমি অনুভব করি,
ওটা ছিল মায়ের গন্ধ, ভীষণ পরিচিত।
ক্লান্ত হয়ে গেলে মনে হয় তুমি পাশেই আছো—
তোমার শূন্যতা অনুভব হয় তীব্রভাবে
মনে হয় ঘুমঘোরে তুমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছো,
আর আমি আস্তে আস্তে ঘুমের দেশে চলে যাচ্ছি।
মা, তোমার কি মনে আছে?
আমি চুপ করে থাকলে তুমি সব বুঝে যেতে,
না চাইতেই থালাভর্তি ভাত এনে দিতে
খেতে না চাইলে তুমি খাওয়ায়ে দিতে
সেই নীরব-নিঃস্বার্থ ভালোবাসা
পৃথিবীর কোথাও আর পাই না এখন।
জ্বর হলে আজো তোমার হাতটা খুঁজি,
যে হাতে ওষুধের চেয়েও বেশি ছিল মায়া, প্রশান্তি।
আজ কেউ আর বলে না—
“ভয় নেই তোর, আমি আছি না।”
তোমার বকা দেওয়ার মায়াভরা মুহূর্তগুলো,
তোমার প্রানবন্ত হাসির উচ্ছলতা ,
রাগ করে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার অভিমান, অভিনয়—
সেই সব মায়াময় মুহূর্তগুলো
আজ কিছুতেই ভুলতে পারছি না, ভুলতে পারি না।
তখন বুঝিনি, এইসব ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই
একদিন জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হবে।
মা, তুমি চলে গেছো ঘরটা ফাঁকা হয়নি শুধু,
আমি নিজেও অর্ধেক হয়ে গেছি।
তবু প্রতিদিন বেঁচে থাকার অভিনয় করি, বাঁচতে হয়
কারণ জানি—
আমার সাফল্যে তুমি গর্ব করে তাকিয়ে থাকো।
আমি ভালো থাকলে তুমি ভীষণ খুশি হতে, মা
তুমি যেন খুশি হও, শান্তি পাও—
এই বিশ্বাসেই আমি বেঁচে আছি,
এই বিশ্বাসেই ভালো থাকার চেষ্টা করি।
হে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন
তুমি আমার মাকে ক্ষমা করে দাও,
তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করো।
রব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা...
রব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানি সাগিরা...
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
খুলনা

ইসলামী সংগীত

 

ইসলামী সংগীত || হামদ এ ইলাহী
ইমরুল কায়েস
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ মহান,
আকাশ, বাতাস, জমিন সবই তাঁর দান
নিঝুম রাতে দেখি তারার তারায়,
খোঁদাই করা তোমার নামের খিলান
হে রব্বুল আলামিন, করুণাময়,
তুমি ক্ষমাশীল, তুমি মালিক মহান।
নিঃশ্বাসে মুমিনের তোমার দয়া,
হৃদয় জুড়ে রহমতের ছায়া
অন্ধকারে তুমি আলো হয়ে,
পথের সঠিক দিশা করো যাও দান
হে রব্বুল আলামিন, করুণাময়,
তুমি ক্ষমাশীল, তুমি মালিক মহান।
এক ফোঁটা রহমতে হাসে দুনিয়া,
জানি আমি সে নামের কতো মহিমা
যখন ভেঙে পড়ে বিশ্বাস আমার,
তোমার নামেই পাই শক্তি জাগার
হে রব্বুল আলামিন, করুণাময়,
তুমি ক্ষমাশীল, তুমি মালিক মহান।
সকল প্রশংসা তোমারই হোক,
তোমাকে মনে করে ভেজে দু'চোখ?
দুনিয়া–আখিরাতে তোমাকে চাই,
তোমার ভালোবাসায় হারিয়ে যাই
হে রব্বুল আলামিন, করুণাময়,
তুমি ক্ষমাশীল, তুমি মালিক মহান।
০১ রমাজান ১৪৪৭ হিজরী
০৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
খুলনা

লাইলাতুল কদর, আমার প্রার্থনা

 

লাইলাতুল কদর, আমার প্রার্থনা
ইমরুল কায়েস
আজ লাইলাতুল কদর; শ্রেষ্ঠতম মহিমান্বিত রজনী।
হে আমার রব, এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের মহান অধিপতি,
তুমি আমার হৃদয় নিঃসৃত একান্ত ফরিয়াদ
শ্রবণ করো, কবুল করো আমার অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা।
অসীম আসমান ও বিশাল জমিনের একমাত্র স্রষ্টা,
তুমি সবজান্তা এবং সর্বত্র বিরাজমান,
বেহেশতের সকল দরোজা-জানালা
তুমি আজ খুলে দিয়েছো, হে আমার প্রভু।
সুবহে সাদিক পর্যন্ত অপেক্ষায় আছে ফেরেশতা,
মুমিনের আমলনামার বিবরণী লিখতে।
হে আমার সৃষ্টিকর্তা, হে আমার প্রদীপ্ত প্রতিপালক
তুমি জিন্দেগীর সকল গুনাহ মাফ করে দাও,
ঐশী আলোর অমিয় ঝর্ণাধারায় অনবরত
আমাদের হৃদয়কে তুমি উদ্ভাসিত করো।
হে সারা জাহানের প্রভু, রহিম রহমান
তুমি আমাদের মনের মাঝে লুকায়িত অন্ধকার
বিতাড়িত করো, দেখিয়ে দাও আলোকজ্জ্বল পৃথিবীর ঠিকানা।
শ্রেণিহীন, বৈষম্যহীন, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সমাজ দাও,
শোষনমুক্ত মানবিক সমাজ গঠনে তুমি আমাদের
ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে জাগরুক করে দাও।
এখন রাত্রি নিঝুম, দ্বিপ্রহর হয়ে গেছে পার...
জেগে আছে মুমিন, জেগে আছে তোমার ফেরেশতাগন
তুমি অজস্র মুমিনের অন্তরের ফরিয়াদ শোনো।
সমাজের মাঝে শ্রেণি-বৈষম্যের দেয়াল ভেঙে
তুমি এক আলোকিত সমাজের স্বপ্ন দেখাও।
মানুষের মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা গহীন অন্ধকার
তুমি দূর করে দাও, হে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন।
তুমি মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করো,
তুমি ক্ষুধার্ত মানুষের আজন্মের ক্ষুধা নিবারণ করো,
হাসপাতালে অসুস্থ্য মানুষকে তুমি সেফা দান করো,
তুমি ত্যাগ ও সাম্যের মধুর বন্ধনের মিলন মোহনায়
এক অনুপম আলোকিত সমাজ গঠন করার
তাওফিক দান করো।
রাত্রি নিঝুম, নিস্তব্ধ আকাশ-বাতাস, চারিপাশ
মনের মাঝে জাগে এক পবিত্র অনুভূতি,
তুমি মানুষের মনে মিলনের স্পৃহা সঞ্চালিত করো।
চারদিকে আজ ফেরেশতাদের নীরব আনাগোনা,
তোমার রহমতের প্রশান্তি বিলিয়ে দেয়।
এই সেই বরকতময়, মহিমান্বিত রাত —
মানবতার পথ দেখাতে, অন্ধকারে আলো জ্বালাতে,
যে রাতে তুমি নাযিল করেছিলে
বিশ্ব মানবের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান, আল-কুরআন;
নীরব পৃথিবী, নিঝুম রাত, অজস্র তারকারাজি
সবাই কেবলই তোমার ইবাদতে মশগুল।
অশ্রু ভেজা চোখ নিয়ে জায়নামাজে বসে আছি,
ক্ষমার ফিরিস্তি হৃদয়ে নিয়ে আছি সেজদার অবনত
চোখে অশ্রুবারি, হৃদয়ে আকুল মিনতি রেখে
তোমার দরবারে আজ আমি আত্মসমর্পণকারী,
অজস্র ভুলে ভরা জীবনের ভার নিয়ে
প্রার্থনায় মগ্ন আছি
তোমার অনুপম ক্ষমার বৃষ্টিতে স্নাত করো।
হে দয়াময় আল্লাহ, তুমি আমাদের ক্ষমা করো
আজ এই মহিমান্বিত রজনীর উসিলায়।
আমাদের জীবন মানেই হলো ভুলের সমাহার
মরুভূমির বালুকারাজির চেয়ে তা অনেক বেশি,
সাগরের জলকনার চেয়ে তা অনেক বেশি;
জাহেরি-বাতেনি, সগিরা-কাবিরা সকল গুনাহ
তুমি মাফ করে দাও, হে আল্লাহ রব্বুল আলামিন।
হে আমার দয়াময় প্রতিপালক
এই পবিত্র রজনীতে তোমার দরবারে হাত তুলেছি,
তোমার রহমতের জন্য আরাধনা করছি,
তুমি আমাদের সম্মান ও রিজিক বাড়িয়ে দাও।
তুমি পবিত্র করো জীবনের প্রতিটি চাওয়া
আমাদের অন্তরে ঢেলে দাও ঈমানের আলো,
হৃদয়কে করো দাও নম্র, বিনয়ী ও কল্যানকর।
যেন প্রতিটি নিঃশ্বাসে স্মরণ করি তোমায়,
প্রতিটি কাজে যেন খুঁজে পাই তোমার সন্তুষ্টি।
হে পরম দাতা দয়ালু মহান প্রভু,
তুমি আমার পরিবারকে দাও প্রশান্তির ঠিকানা,
আমার প্রিয়জনদের দাও ইমানের হেদায়েত;
পৃথিবীর সকল মুমিনের মননে তুমি রহমত বর্ষণ করো।
যে চোখে আজ অনুতপ্তের অশ্রু ঝরে
সেই চোখকে তুমি নূরের আলোয় পূর্ণ করে দাও
যেন কিয়ামতের দিনে হাসতে হাসতে
পার হতে পারি বিপদের পুলসেরাত।
হে আল্লাহ, হে আমার প্রভু
এই পবিত্র রাতে আমার প্রাণময় প্রার্থনা শোনো—
তুমি সকল জালিমের পাপিষ্ট হাত ভেঙে দাও,
বিশ্বজুড়ে সকল মজলুমের পাশে অবস্থান করো,
তুমি তাদেরকে রক্ষা করো, হেফাজত করো,
তোমার মমতা দিয়ে এ পৃথিবী তুমি পূর্ণ করো।
হে আমার ভাগ্য বিধাতা
আমাদের জীবন তেমন হোক, যেমনটা তুমি চাও
আমাদের মৃত্যু যেন হয় ঈমানের আকীদায়।
এই রজনীতে আজ আমার শেষ প্রার্থণা—
আমাদের ঠিকানা যেন হয় জান্নাতুল ফেরদাউস।
মধ্যরাতের আধো আলো, আধো ছায়ায়
অশ্রুভেজা চোখ তোমার ক্ষমার সাগরে নিমজ্জিত।
হে আমার প্রভু,
আমাকে তুমি কবুল করো, ক্ষমা করো,
তুমি অকৃপন মমতায়, ধন-ধান্যে ভরে দাও এই ধরিত্রী।
তোমার রহমতের ছায়াতলে ঠাঁই যেন হয় অনন্তকাল।
রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা
রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা।

বাংলা গজল

 

বাংলা গজল || গোলাপের বাহা
ইমরুল কায়েস
গোলাপের বাহার দেখে প্রজাপতি ছুটে আসে
গোলাপের বাহার দেখে প্রজাপতি ছুটে আসে
হয়ে যায় সবই তো গোলমাল...
তুমি কি তেমন কিছু, রূপে-রঙে ভরে আছো
আমি বেসামাল...
গোলাপের বাহার দেখে প্রজাপতি ছুটে আসে
গোলাপের বাহার দেখে...
অলি ছোটে কাননেতে, গুন গুন গুন গান গেয়ে
সারা গায়ে মেখে মেখে ভালোবাসার রঙ দিয়ে
অলি ছোটে কাননেতে, গুন গুন গুন গান গেয়ে
সারা গায়ে মেখে মেখে ভালোবাসার রঙ দিয়ে
যদি না হয় পরাগ মাখা সে হয় তো মাকাল
তুমি কি তেমন কিছু রূপে-রঙে ভরে আছো
আমি বেসামাল...
গোলাপের বাহার দেখে প্রজাপতি ছুটে আসে
গোলাপের বাহার দেখে...
কলি ছুটে কাগজেতে কালির আঁচড় মেখে
সারা পাতা ভরে নিয়ে কলমের নাচন দিয়ে
কলি ছুটে কাগজেতে কালির আঁচড় মেখে
সারা পাতা ভরে নিয়ে কলমের নাচন দিয়ে
যদি না হয় কালি মাখা সে হয় তো বেতাল
তুমি কি তেমন কিছু রূপে-রঙে ভরে আছো
আমি বেসামাল...
গোলাপের বাহার দেখে প্রজাপতি ছুটে আসে
গোলাপের বাহার দেখে প্রজাপতি ছুটে আসে
হয়ে যায় সবই তো গোলমাল
তুমি কি তেমন কিছু রূপে-রঙে ভরে আছো
আমি বেসামাল...

Thursday, June 5, 2025

চেতনায় কাজী নজরুল

 

চেতনায় কাজী নজরুল
ইমরুল কায়েস

হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর, মানুষের মননে মননে
বিদ্রোহের ঝঙ্কার তুলে কাঁপিয়ে দিয়েছিল
যে আলোক বিচ্ছুরিত ক্ষণজন্মা ধুমকেতু,
বাঙলা সাহিত্যে তার নাম, ‘কাজী নজরুল’।
বিংশ শতাব্দীর মশাল হাতে তুমি এক স্বতন্ত্র কবিসত্তা। তুমি বাঙলা সাহিত্যে এনেদিলে এক নতুন ভোর,
নতুন প্রভায় প্রদীপ্ত, স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল কবিপ্রতিভা।
স্বর্গের অদৃশ্য সিঁড়ি বেয়ে, মানবতার বারতা নিয়ে
তুমি এসেছিলে এই বাংলার শ্যামল প্রান্তরে;
মেঘে ঢাকা আকাশে তুমি এক নতুন নক্ষত্র।
তুমি এক হাতে নিয়েছিলে বিদ্রোহী রণতূর্য
মায়াবী বাঁশের বাঁশরী ছিল তোমার অন্য হাতে;
মিলনের সুর তুলে, শ্রেণি-বিভেদ ভুলে
অজস্র নিশি জেগে, ঘুমন্ত গণমানুষের কানে
তুমি গেয়েছিলে ঘুম ভাঙানো গান।
শতাব্দীর মানবিক জঞ্জাল সরাতে সরাতে
সভ্যতার আঁধার ঘোঁচাতে ঘোঁচাতে
জলন্ত প্রদীপ হয়ে তুমি এসেছিলে এই ধরণীতে।
যে প্রেম দিতে ও নিতে তুমি এসেছিলে লোকালয়ে,
তা পাওনি বলে তোমার অনেক দুঃখ থাকার কথা
যে প্রেম তুমি দিয়ে গেছো নীরবে, নিঃভৃতে
হৃদয়ের শান্ত সৈকতে বাঙালি তা রেখেছে ধরে;
ক্ষুধায়-তৃষ্ণায়, দুর্যোগের মহাতান্ডবে
তাই তো এখনো বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখি।
অত্যাচারীর ভয়ঙ্কর কালো হাত থামাতে,
শ্রেণি-হীন, বৈষম্যহীন নতুন সমাজ গঠনে
এই সময়ে তুমি এক অপরিহার্য শৈল্পিক অনুষঙ্গ।
নির্যাতিত-অনাহারী মানুষের কান্ডারী,
হে বিদ্রোহী কবি নজরুল, শ্রদ্ধাঞ্জলি তোমাকে।
জ্বলন্ত নক্ষত্রের মতো, চিরকাল
তুমি মিশে রবে আমাদের অস্তিত্বে, আমাদের চেতনায়।