কবিতা || জীবনান্বেষণ
ইমরুল কায়েস
মানুষ তার জীবন নিয়ে যতোটুকু ভাবে
তার চেয়ে ঢের বেশি ভাবে জীবনের প্রয়োজন নিয়ে,
যে আলো নিয়ে মানুষ জন্ম নেয়, সে আলোর অর্থ
বুঝতে বুঝতেই তার চুলে জমে রূপালি ধুলো।
আমরা সবাই কোনো না কোনো নদীর মতো—
উৎস জানি, গন্তব্য জানি না।
পথের বাঁকে বাঁকে খুঁজে পাই শুধুই শেখারপাঠ
কীভাবে ভাঙতে হয়, কীভাবে আবার গড়তে হয়।
সুখ কখনো জীবনের স্থায়ী ঠিকানা নয়,
দুঃখও নয় কোনো চিরস্থায়ী কারাগার;
দু'জনেই পথিক; কিছু দূর পাশাপাশি হেঁটে যায়,
আবার হারিয়ে যায় অদৃশ্য দিগন্তে,
অথচ, সুখ-দুঃখকে নিয়ে আমাদের কতোই না গবেষণা!
জীবন আমাকে শিখিয়েছে ঢের—
সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়াই প্রজ্ঞা নয়,
কিছু প্রশ্নের উত্তর না জেনেও তাকে ভালোবাসা,
তাকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে পারাও এক ধরনের জ্ঞান।
যে বৃক্ষ ঝড়ের কাছে মাথা নত করে, সে পরাজিত নয়;
বরং, সে বেঁচে থাকার শিল্প আয়ত্ত্ব করে।
আর যে মানুষ পরাজয়ে না ভেঙ্গে -
প্রতিটি ক্ষতকে অভিশাপ না ভেবে অভিজ্ঞতা বানায়,
সে সময়ের কাছ থেকে শিখে নেয় অমরত্বের ভাষা।
আমরা যা হারাই, তার সবটুকুই হারানো নয়;
কিছু কিছু প্রস্থান, ভেতরে নতুন দরজা খুলে দেয়।
কিছু কিছু শূন্যতা সীমাহীন বেদনার সমুদ্র পেরিয়ে
নক্ষত্রের মতো জ্বলে ওঠে আত্মার আকাশে।
তাই, এখনো বিশ্বাস করি—
জীবনের সবচেয়ে বড় বিজয় শিখরে পৌঁছানো নয়,
বরং প্রতিটি ধূলিকণায় অস্তিত্বের বিস্ময় খোঁজা,
কারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত তার অর্জনের সমষ্টি নয়,
গভীর জীবন-বোধের অনাবিষ্কৃত গভীরতা।
আর জীবন— সে তো এক দীর্ঘ কবিতা!
যার প্রতিটি অক্ষর, বিরামচিহ্নের মধ্যেও
লুকিয়ে থাকে রহস্যময় অনন্তের স্পন্দন।
১৩ জুন ২০২৬ খ্রি. || ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ব.
কিছুক্ষণ, খুলনা

No comments:
Post a Comment